খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার একটি নালা থেকে প্রায় দেড় হাজার পিস তাজা বুলেট বা কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় বিএসআরএম কারখানার ৫ নম্বর গেটসংলগ্ন নালা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এসব গুলি উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। উদ্ধারকৃত গুলির মধ্যে আনুমানিক ১২০টি বড় আকারের এবং ১ হাজার ২০০টিরও বেশি ছোট আকারের বুলেট রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিনের মতো নালা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে নালার ময়লা-আবর্জনা ও কাদার নিচে একটি ভারী বস্তা আটকে থাকতে দেখেন তারা। বস্তাটি তুলে মুখ খুলতেই ভেতরে সারিবদ্ধভাবে রাখা বিপুল পরিমাণ বুলেট দেখতে পান পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের জানালে পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর দ্রুত সময় না নিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের একটি চতুর দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা বস্তাটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক গণনা সম্পন্ন করে এবং আলামত হিসেবে জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উদ্ধার হওয়া বড় আকৃতির ১২০টি বুলেট সাধারণত একে-৪৭ বা সমমানের স্বয়ংক্রিয় ভারী অস্ত্র থেকে ফায়ার করার উপযোগী। তবে এসব বুলেট কতদিন আগের, কোন নির্দিষ্ট ব্যাচের এবং কার কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলামত যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, সংবাদ পেয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকার বিএসআরএম কারখানার পাশের নালা থেকে বস্তাবন্দি বুলেটগুলো জব্দ করেছে। গণনায় সেখানে ১২০টি বড় এবং ১,২০০টির বেশি ছোট আকারের বুলেট পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি নালার ভেতরে বিপুল পরিমাণ তাজা অস্ত্রসামগ্রী কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে ফেলে গেছে বা লুকিয়ে রেখেছিল—সে বিষয়ে পুলিশ ছায়াতদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে সংলগ্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে। উদ্ধারকৃত আলামতের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও নিশ্চিত করেছেন এই কর্মকর্তা।