দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের স্বীকৃতি পেলেন ইংল্যান্ডের ডানহাতি পেসার ওলি রবিনসন। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই পেসার।
লর্ডসে আয়োজিত ‘ভাইটালিটি ক্রিকেট মিডিয়া ক্লাব অ্যাওয়ার্ড’-এর অনুষ্ঠানে রবিনসনের হাতে তুলে দেওয়া হয় বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বব উইলিসের নামে দেওয়া হয় এই ট্রফি। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
২০২১ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল রবিনসনের। শুরুতে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিলেও পরবর্তী সময়ে ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলার পর দল থেকে বাদ পড়েন এই পেসার। এরপর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়েও তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা।
তবে অপেক্ষার অবসান ঘটে ২০২৬ সালের জুনে। প্রায় দুই বছর চার মাস পর আবারও ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে জায়গা পান রবিনসন। ফিরে এসেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের দুই ইনিংসে যথাক্রমে পাঁচ ও দুই উইকেট নিয়ে দলের বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই পেসার।
এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখেন তিনি। সিরিজের ছয় ইনিংসে বল হাতে তুলে নেন মোট ২১ উইকেট। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপের ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করে নিজের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যের পরিচয় দেন রবিনসন।
চলতি বছরে চারটি টেস্টে তাঁর এমন কার্যকর বোলিং পারফরম্যান্সই বর্ষসেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে যেভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুরস্কার জয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রবিনসন বলেন, এই সম্মাননা পাওয়া তাঁর জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়। দীর্ঘ সময় ইংল্যান্ড দলের বাইরে থাকার পর আবারও জাতীয় দলে ফিরে এবারের গ্রীষ্মে এমন পারফরম্যান্স করতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা।
নিজের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রবিনসনের ভাষ্য, জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময় তাঁর জন্য বেশ কিছু কঠিন মুহূর্ত এসেছে। সে কারণে এই স্বীকৃতি তাঁর কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের হয়ে আবারও মাঠে নামতে পেরে তিনি আনন্দিত। ভবিষ্যতেও দলের হয়ে আরও সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর।
এদিকে একই অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছেন মিডলসেক্সের পেসার নাভিয়া শর্মা। ২১ বছর বয়সী এই বোলার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে নয়টি ম্যাচ খেলে ৩৫ উইকেট শিকার করেছেন। তাঁর পারফরম্যান্স মিডলসেক্সের ওয়ানডে কাপ জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
বর্তমানে ইংল্যান্ড লায়ন্স দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে রয়েছেন শর্মা। তরুণ এই পেসারের জন্যও পুরস্কারটি তাঁর ক্রিকেটীয় অগ্রযাত্রায় উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। একই অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞ রবিনসনের প্রত্যাবর্তনের সাফল্য এবং শর্মার সম্ভাবনাময় পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে দুই প্রজন্মের বোলারদের অর্জনকে সামনে নিয়ে এসেছে।



