ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নবগঠিত উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে কসবা পৌর সুপার মার্কারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন কসবা পৌর শ্রমিক দলের সদস্য হোসেন মিয়া (৪০), পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী শহিদুল খাঁ (৩০), ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সদস্য রাব্বি মিয়া (২৫), পৌর ছাত্রদলের নেতা রাসেদুল ইসলাম (২৭) এবং মো. জুয়েল (৩০)। তাঁদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহত পাঁচজনই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী বলে জানা গেছে।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিরোধ
উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মূলত দুটি পক্ষের অনুসারী হিসেবে বিভক্ত। একটি পক্ষ স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের সমর্থক। অন্য পক্ষ জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মীর দাবি, সম্প্রতি ঘোষিত কসবা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে সংসদ সদস্যের অনুসারীদের যথাযথভাবে স্থান দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল। নতুন কমিটি ঘোষণার পর সেই বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়।
গত ১ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান ও সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তীর স্বাক্ষরে কসবা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের দুটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটির মধ্যে উপজেলা ছাত্রদলে ১২ জন এবং পৌর ছাত্রদলে ১৩ জনকে রাখা হয়েছে। তবে কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আপত্তি ওঠে। বিশেষ করে বাদ পড়া নেতা-কর্মীদের একটি অংশ কমিটিকে অবৈধ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
আনন্দমিছিল ঘিরে মুখোমুখি দুই পক্ষ
উপজেলা ছাত্রদল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যার পর জেলা ছাত্রদলের ঘোষিত নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারী এবং নবগঠিত পৌর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদের নেতৃত্বে একটি আনন্দমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পৌর শহরের স্বাধীনতা চত্বরের দিকে এগিয়ে যায়।
একই সময়ে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী ছাত্রদলের একাংশের নেতা রাজু আহমেদ ও শহিদুল খাঁর নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। তাঁদের দাবি, জেলা ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটি গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা অবৈধ। এ নিয়ে স্বাধীনতা চত্বরে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে সংসদ সদস্যের অনুসারী পাঁচজন আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা
সংঘর্ষের পর সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী রাজু আহমেদ কমিটি বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
অন্যদিকে, নবগঠিত কমিটির পক্ষের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য বা সংঘর্ষের বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। ফলে কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের পেছনে থাকা অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।
এলাকায় পুলিশ মোতায়েন
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, সংঘর্ষের পর এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এমন সংঘর্ষে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধ যেন আরও বড় ধরনের সহিংসতায় না গড়ায়, সে জন্য দুই পক্ষের সংযম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাও প্রয়োজন।


