খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ইউরোপের দেশগুলোতে বীমা ব্যবস্থা নাগরিক জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই অঞ্চলের সুসংগঠিত বীমা কাঠামো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে বলে বিভিন্ন খাত বিশ্লেষণে উল্লেখ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক খাত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সময়কালে ইউরোপের বীমা বাজারের মোট পরিমাণ প্রায় এক দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ইউরোপীয় মুদ্রা একক পর্যন্ত পৌঁছেছে। একই সময়ে এই খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় চার শতাংশের কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে। শক্তিশালী আইন কাঠামো, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তার উচ্চ প্রত্যাশার কারণে ইউরোপের অনেক দেশে বীমা ব্যবস্থা ছাড়া দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
২০২৪ সালে পশ্চিম ইউরোপ অঞ্চলে বীমা প্রিমিয়াম সংগ্রহে প্রায় ছয় শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বীমা ও জীবন বীমা খাতে মানুষের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবন বীমা খাতে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে, যা জনগণের মধ্যে এই ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণ সূত্রে বলা হয়েছে, ইউরোপে বীমা খাতে করপোরেট বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই বাজারের পরিপক্বতা নির্দেশ করে।
ইউরোপের বীমা খাতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া এবং অনলাইন সেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরগুলোতে এই প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে।
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে বীমা গ্রহণের হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ইউরোপের বহু দেশে এটি বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশি। কিছু দেশে অনলাইন ভিত্তিক বীমা সেবায় ব্যক্তিগত গ্রাহকদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউরোপে বীমাকে প্রায়ই একটি অদৃশ্য নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গাড়ি চালানো, আবাসন ভাড়া গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় বীমা বাধ্যতামূলক। স্বাস্থ্য খাতে বীমা উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের ক্ষতির ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা বীমা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে বীমা খাত এখনো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বীমা খাতের অবদান মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় শূন্য দশমিক চার শতাংশ, যেখানে ইউরোপের অনেক দেশে এটি আট থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ধীরগতির দাবি নিষ্পত্তি, সীমিত জনসচেতনতা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতা এই খাতের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।
| বিষয় | ইউরোপ | বাংলাদেশ |
|---|---|---|
| বাজারের পরিমাণ | প্রায় এক দশমিক তিন ট্রিলিয়ন মুদ্রা একক | তুলনামূলকভাবে সীমিত |
| মোট দেশজ উৎপাদনে অবদান | প্রায় আট থেকে দশ শতাংশ | প্রায় শূন্য দশমিক চার শতাংশ |
| বার্ষিক প্রবৃদ্ধি | প্রায় চার শতাংশের কাছাকাছি | সীমিত ও অনিয়মিত |
| প্রযুক্তিনির্ভর সেবা | ব্যাপকভাবে বিস্তৃত | সীমিত পর্যায়ে |
| বীমা গ্রহণের হার | উচ্চ | নিম্ন |
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক বীমা নীতি প্রবর্তন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ এবং দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করা গেলে বীমা খাত অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং সাধারণ মানুষের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।