খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তঘেঁষা ইছামতী নদীতে তিন দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও নানা জল্পনা-কল্পনা দেখা দিয়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে নদীর তীরে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে কয়েকজন সাহসী ব্যক্তি নদীতে নেমে কচুরিপানার নিচে একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পান। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তারা দ্রুত মহেশপুর থানা পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সীমান্তের জিরো লাইন থেকে আনুমানিক ১০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইছামতী নদীর পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃতদেহটি কয়েকদিন আগে পানিতে ভেসে এসে ওই স্থানে আটকে ছিল।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচন ধরে ফুলে গেছে, যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে মৃত্যুর সময় তিন থেকে চার দিন আগে। এখনো পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে মরদেহের পকেটে একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে, সেটির তথ্য যাচাই করে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
উদ্ধারকৃত মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে তা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, মরদেহটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইছামতী নদীর কচুরিপানার নিচে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে তদন্ত চালানো হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর মাত্র তিন দিন আগে—গত সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে—একই স্থান থেকে আরেক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই মরদেহের পরিচয়ও এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ফলে পরপর দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কারণে অজ্ঞাত মরদেহ ভেসে আসার ঘটনা ঘটে, যা কখনো দুর্ঘটনা, কখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা সীমান্ত পারাপারের ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বিশেষ করে ইছামতী নদীর মতো সীমান্তঘেঁষা জলপথে নজরদারি জোরদার না হলে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকে।
নিচে গত তিন দিনের ঘটনাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| তারিখ | সময় | স্থান | ঘটনা | পরিচয় |
|---|---|---|---|---|
| ১৩ এপ্রিল (সোমবার) | রাত ৯টা | ইছামতী নদী, মহেশপুর সীমান্ত | অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার | শনাক্ত হয়নি |
| ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) | সন্ধ্যা ৬টা | একই স্থান | দ্বিতীয় অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার | যাচাই চলছে |
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সামগ্রিকভাবে, পরপর দুইটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইছামতী নদীঘেঁষা মহেশপুর সীমান্ত এখন এক গভীর রহস্যে আবৃত। তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের ফলাফলই এই ঘটনার প্রকৃত চিত্র উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।