নিহত ব্যক্তিরা হলেন মোক্তার কামাল (৪৮) ও আলী আকবর (৩০)। তাঁরা দুজনই টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকার বাসিন্দা।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকা থেকে মোক্তার কামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে একই ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাং এলাকার একটি বনাঞ্চল থেকে আলী আকবরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দুজনকেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় স্থানীয় মাদক কারবারিরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তে নিহত দুজনেরও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনের নামও পেয়েছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে পানখালী এলাকায় কয়েকজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। পরে কাছে গিয়ে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় আহত অবস্থায় ইলিয়াস (৩৫) ও আলী আহমদ (৪০) নামের দুজনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ইলিয়াস পরে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।
ইলিয়াসের অভিযোগ, ছিনতাই হওয়া এক লাখ ইয়াবার একটি চালান থেকে ৩০ হাজার বড়ি নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন মাদক কারবারির মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই চালান ঘিরে সন্দেহ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরেই তাঁদের অপহরণ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ইলিয়াসের বর্ণনা অনুযায়ী, সোমবার রাতে মিজান নামের এক ব্যক্তি তাঁদের চারজনকে হ্নীলা এলাকার পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে একটি সশস্ত্র মাদক কারবারি দলের হাতে তুলে দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ইয়াবার চালান থেকে বড়ি নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। পরে বিচারের নামে তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
এই নির্যাতনের একপর্যায়ে মোক্তার কামালের মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন ইলিয়াস। অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ থাকা আলী আকবরের মরদেহ পরে লেচুয়াপ্রাং এলাকার বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, প্রাথমিকভাবে তিনি জানতে পেরেছেন, ইয়াবার চালান নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে।
টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় মাদক কারবার, সশস্ত্র অপরাধী চক্রের তৎপরতা এবং এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই হত্যাকাণ্ডের পর। তবে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, আহতদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের বিরোধের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এখন তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


