ইয়েমেনের রাজধানী সানার পূর্বাঞ্চলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। হামলায় হতাহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলাসবাহি হতাহতের এ তথ্য জানান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সানার পূর্বাঞ্চলের বানি হাশিশ জেলার আল শারিয়াহ গ্রামে কয়েক দফায় বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
আলাসবাহির দাবি, এসব হামলায় গ্রামের একাধিক বাড়িঘর ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করেন উদ্ধারকর্মীরা। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, উদ্ধার কার্যক্রম চলার পাশাপাশি হতাহতের তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবের পর নতুন করে হতাহতের তথ্য পাওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে পৌঁছেছে। আহত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন।
তাঁর অভিযোগ, বিমান হামলার সময় অ্যাম্বুলেন্সকর্মী এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। এতে উদ্ধার ও জরুরি সেবা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন কোনো সূত্রের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে হামলার ঘটনা নিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে হামলার লক্ষ্যবস্তু, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং হতাহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। সর্বশেষ বানি হাশিশের এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


