ইরানের পরমাণু কর্মসূচি রুখতে ট্রাম্পের চরম ১০ দিনের আল্টিমেটাম

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে নতুন করে একটি পরমাণু চুক্তিতে আসার জন্য মাত্র ১০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এই দাপুটে নেতা। মার্কিন প্রশাসন ও পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে চলতি সপ্তাহের শেষভাগেই যেকোনো সময় হামলা শুরু করার সক্ষমতা অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

পারমাণবিক উত্তেজনা ও ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধান উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক সক্ষমতা। গত মঙ্গলবার জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও চুক্তির বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো সন্দিহান। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক ভাষণে ট্রাম্প স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত বছর ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করেছিল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “হয়তো আমাদের আরও এক ধাপ এগোতে হবে, অথবা একটি চুক্তি হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির মহড়া

পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, ইরানকে লক্ষ্য করে আকাশ, জল ও স্থলপথে এক বিশাল রণপ্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। নিচে মার্কিন সামরিক শক্তির বর্তমান বিন্যাসের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:

সামরিক সম্পদ বর্তমান অবস্থান ও সক্ষমতা
বিমানবাহী রণতরি মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ২টি রণতরি মোতায়েন রয়েছে।
যুদ্ধবিমান ৫০টিরও বেশি এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রস্তুত।
প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মার্কিন ঘাঁটি রক্ষায় প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
সেনা সংখ্যা বিভিন্ন স্থায়ী ঘাঁটিতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার প্রশিক্ষিত সেনা।
বিশেষ আক্রমণ উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে শক্তিশালী বি-২ বোমারু বিমান।

ইসরায়েলের তৎপরতা ও যুদ্ধের আশঙ্কা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এই উত্তেজনার মাঝে ইসরায়েলও হাত গুটিয়ে বসে নেই। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, দেশটির সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। ইসরায়েলের পরিকল্পনা হলো, তীব্র হামলার মাধ্যমে ইরানকে নৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া যেন তারা আলোচনায় নমনীয় হতে বাধ্য হয়।

বিশেষজ্ঞ মতামত ও ভবিষ্যতের ঝুঁকি

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান বিশেষজ্ঞ ভালি নাসর সতর্ক করে বলেন, হামলার প্রস্তুতি হিসেবে আলোচনার মাধ্যমে সময় নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হামলা চালালে তার পরিণাম কী দাঁড়াবে এবং ইরান এর বিপরীতে কতটা বিধ্বংসী প্রতিশোধ নিতে পারে, তা ট্রাম্পকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত শুরু হলে প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো প্রতিরক্ষাব্যবস্থাগুলো মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে কতটা সুরক্ষা দিতে পারবে, তা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ইরান কি ট্রাম্পের আল্টিমেটাম মেনে নিয়ে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী হবে—তা জানার জন্য পুরো বিশ্ব এখন আগামী ১০ দিনের দিকে তাকিয়ে আছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।