খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA) রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর করা বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে লিসবনে বেনফিকার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। উয়েফা জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে একজন বিশেষ ‘নীতি ও শৃঙ্খলা পরিদর্শক’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবেন। ফুটবল মাঠে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে উয়েফার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে এই তদন্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বেনফিকার ঘরের মাঠ এস্তাদিও দা লুজে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ১-০ গোলে জয়লাভ করে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভিনিসিয়ুস যখন জয়সূচক গোলটি করেন, তার ঠিক পরেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ভিনিসিয়ুস অভিযোগ করেন যে, বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি তাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ বর্ণবাদী গালি দিয়েছেন। সাথে সাথেই ভিনিসিয়ুস রেফারির কাছে অভিযোগ পেশ করেন এবং রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা একযোগে মাঠ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনার ফলে ম্যাচটি প্রায় ১১ মিনিট বন্ধ থাকে, যা সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সম্ভাব্য আইনি প্রভাব:
| বিষয় | বিবরণ |
| ম্যাচ ও তারিখ | বেনফিকা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)। |
| অভিযুক্ত খেলোয়াড় | জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি (বেনফিকা)। |
| অভিযোগের ধরন | বর্ণবাদী গালি (ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর’ বলা)। |
| ম্যাচ স্থগিতকাল | ১১ মিনিট। |
| সম্ভাব্য শাস্তি | প্রমাণিত হলে কমপক্ষে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। |
রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। তার দাবি অনুযায়ী, প্রেস্তিয়ান্নি সচেতনভাবেই নিজের মুখ জার্সি দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন যাতে লিপ-রিডিং বা ঠোঁট দেখে তার কথা বোঝা না যায়। এমবাপ্পে অভিযোগ করেন, প্রেস্তিয়ান্নি অন্তত পাঁচবার ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর’ বলে সম্বোধন করেছেন। অন্যদিকে, প্রেস্তিয়ান্নি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভিনিসিয়ুস তার কথা ভুল শুনেছেন। এই প্রেক্ষাপটে বেনফিকা ক্লাব তাদের খেলোয়াড়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘একসঙ্গে তোমার পাশে’ লিখে বার্তা দিয়েছে।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দীর্ঘদিন ধরেই স্প্যানিশ লা লিগায় বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। এর আগেও ভ্যালেন্সিয়া ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে তিনি একইভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, “বর্ণবাদীরা সর্বোপরি কাপুরুষ।” উয়েফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, যদি প্রেস্তিয়ান্নি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে ইউরোপীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বড় অংকের জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।
ফুটবল বিশ্বে বর্ণবাদ নিরসনে ফিফা ও উয়েফা কঠোর আইন করলেও মাঠের বাস্তবতায় এর পুনরাবৃত্তি বারবার ঘটছে। রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার শেষ পর্যন্ত লড়বে এবং তাদের খেলোয়াড়ের মর্যাদা রক্ষায় কোনো আপস করবে না। উয়েফার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।