খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েই চলেছে, এবং ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে বুধবার তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সামরিক কমান্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “তেলের দাম আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল। যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন, তার দায় যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগী দেশগুলোর।” তিনি আরও যোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকগুলোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো হতে পারে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগরে এবং ইসরায়েল-ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত। তেলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে গেছে। এ প্রণালী ১৯৭০-এর দশকের পর এত বড় সংকটের মুখোমুখি হয়নি। বুধবারের হামলায় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং এ পর্যন্ত ১৪টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা হ্রাস পেলেও শেয়ারবাজার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার সম্ভাবনায় কিছুটা শিথিলতা আনার চেষ্টা করেছেন, তবে সামরিক সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বৈশ্বিক কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সুপারিশ করতে পারে। তবে বাস্তবায়নে কয়েক মাস সময় লাগবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে গ্লোবাল অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে।
ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, ইরানি শাসকগোষ্ঠী এই যুদ্ধকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হতে পারে। অন্য কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন সামরিক অভিযান শেষ করার কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হামলার স্থান | হরমুজ প্রণালী, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য |
| ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ | ৩টি (মোট ১৪টি যুদ্ধ শুরুর পর) |
| হুঁশিয়ারি | তেলের দাম ২০০ ডলার/ব্যারেল |
| সামরিক হুমকি | যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও নৌপরিবহন লক্ষ্যবস্তু |
| আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি | আইইএ ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মুক্তির সুপারিশ |
| অর্থনৈতিক প্রভাব | বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা |
| বিশেষজ্ঞ আশংকা | যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হতে পারে |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের দীর্ঘায়িত অবস্থার প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, শিপিং, পর্যটন ও অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও ব্যাপক হবে।
ইরানের সামরিক হুঁশিয়ারি এবং তেলের দাম সংক্রান্ত আগাম সতর্কবার্তা বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, রাজনীতি ও সামরিক সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।