গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রোসাটমের প্রধান আলেক্সেই লিখাচেভ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং কেন্দ্রটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রাশিয়া।
লিখাচেভ বলেন, ‘আমরা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেব না। বরং সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রটিতে কর্মরত রুশ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ৭০০-তে উন্নীত করতে চায় রোসাটম। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন করে ৫০৮ জন বিশেষজ্ঞ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে পারস্য উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেন্দ্রটি নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। রুশ সহযোগিতায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বুশেহরে রুশ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
রোসাটমের প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পরিকল্পনা শুধু বিদ্যমান কর্মীদের সেখানে ধরে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে নতুন বিশেষজ্ঞদের ঠিক কবে পাঠানো হবে, তাঁদের দায়িত্ব কী হবে এবং উৎপাদন সক্ষমতা কতটা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। বুশেহর কেন্দ্রের কার্যক্রমে রাশিয়ার ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা দুই দেশের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরে। তবে নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সীমা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য জানতে রোসাটমের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।


