খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ সম্প্রতি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ‘ইরানের সম্ভাব্য আগ্রাসন ও তার প্রভাব’ এবং সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৈঠকের বিষয়ে জানায়, দুই দেশই ইরানকে নিরুৎসাহিত করার জন্য কৌশলগত সমন্বয় ও সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে।
বৈঠকে মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে:
ইরানের সাম্প্রতিক ক্রমবর্ধমান সামরিক কার্যক্রম এবং মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাত।
সৌদি-পাকিস্তান কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর মধ্য দিয়ে মিলিত পদক্ষেপ।
উভয় পক্ষের প্রত্যাশা যে ইরান বিচক্ষণতা ও যুক্তির পথ বেছে নেবে এবং কোনো বিভ্রান্তিকর বা বিপজ্জনক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলবে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই বৈঠক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প সংক্রান্ত আলোচনা গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২১ দিনের এই সংলাপ কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এর পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে ইরানের বিরুদ্ধে, এবং একই সময়ে ইসরাইল তাদের ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালু করে।
ইরান পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো এবং ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সংঘাতে ইরানকে গোয়েন্দা ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া।
| তারিখ | দেশ/সেনা | অভিযান/প্রতিকার | লক্ষ্যবস্তু | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ৬-২৭ ফেব্রুয়ারি | ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র | সংলাপ | পরমাণু প্রকল্প | সমঝোতা ব্যর্থ |
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | যুক্তরাষ্ট্র | অপারেশন এপিক ফিউরি | ইরান | সামরিক অভিযান শুরু |
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | ইসরাইল | অপারেশন রোয়ারিং লায়ন | ইরান | যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় |
| মার্চ মাস | ইরান | ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ | মার্কিন ও ইসরাইলি সেনাঘাঁটি | রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তা আছে |
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের এই বৈঠক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, দুই দেশই ইরানকে যুক্তিসঙ্গত ও শান্তিপ্রিয় সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে প্রস্তুত।
সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে, কিন্তু সৌদি-পাকিস্তান সমন্বয় ও কৌশলগত বৈঠক এই সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে ধরা হচ্ছে। মোটকথা, বৈঠকটি কৌশলগত দৃঢ়তার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।