ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স মঙ্গলবার জানান, আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।
ক্যাপ্টেন হকিন্স বলেন, “আহতদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে আবার দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৮০ জন সেনাসদস্য আবার কাজে ফিরে গেছেন। তবে আহতদের মধ্যে দগ্ধ হওয়া, বিস্ফোরণের আঘাত, মস্তিষ্কে আঘাতজনিত ক্ষতি এবং বিস্ফোরণ থেকে ছিটকে আসা টুকরোর আঘাতের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে।”
সেন্ট্রাল কমান্ডের সামরিক কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, অনেক হামলার পেছনে ইরানের ‘একমুখী’ ড্রোন হামলা দায়ী। মার্কিন বাহিনীর যৌথ চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন পূর্বে জানিয়ে ছিলেন, এই ধরনের ড্রোন হামলাই মূলত সেনাদের হতাহতের কারণ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে ইরানের বিভিন্ন স্থানে। তারপর থেকে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলো অবস্থিত, সেখানে ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
নিম্নে মার্কিন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতির একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলি টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ | মোট নিহত | মোট আহত | গুরুতর আহত | পুনরায় কাজে যোগ দেওয়া সেনা |
|---|---|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি–১৭ মার্চ | ১৩ | ২০০ | ১০ | ১৮০ |
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া, এই সংঘাতের কারণে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ব্যাপক প্রভাবিত হতে পারে।
সামরিক সূত্র জানাচ্ছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ এবং সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি যত দিন যাচ্ছে, তত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে এবং প্রান্তিক অঞ্চলের সাধারণ মানুষও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছে, তারা আহতদের সঠিক চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।



