খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে একটি পরিবার প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছিল। তিনি বলেন, ইসলামি ব্যাংকিং খাতকে টেকসই ভিত্তিতে দাঁড় করাতে উন্নত হিসাবরক্ষণ, সুশাসন এবং উচ্চমানের অডিটিং এখন অত্যন্ত জরুরি।
গতকাল রাজধানীর বনানীতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ফাইন্যান্স সামিট-২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন করছে, যেখানে বৈশ্বিক সেরা অনুশীলন অনুসরণ করা হবে।
গভর্নর আরও বলেন, ইসলামি ব্যাংকিং খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য দক্ষ অডিটিং ও শক্তিশালী সুশাসন অপরিহার্য। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইসলামি ও প্রচলিত উভয় ব্যাংককেই উচ্চমানের অডিটিং স্ট্যান্ডার্ড মানতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামি ব্যাংকিং খাতে কিছু অস্থিরতা দেখা দিলেও সামগ্রিকভাবে খাতটি এখনো স্থিতিশীল এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে।
তিনি জানান, সমস্যাগ্রস্ত ইসলামি ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এর ইতিবাচক ফল মিলছে। ইসলামী ব্যাংকের উদাহরণ তুলে ধরে গভর্নর বলেন, তীব্র তারল্য সংকটে পড়ার পরও ব্যাংকটি আবার স্থিতিশীল হয়েছে এবং এ বছর ইসলামি ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ আমানত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তারল্য সংকটে থাকা কয়েকটি ইসলামি ব্যাংকের সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূতকরণ (মার্জার) প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলেও তিনি জানান। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গভর্নর আরও বলেন, আমরা চাই ইসলামি ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্সশিট আরও শক্তিশালী হোক, পরিশোধিত মূলধন বাড়ুক এবং পরিচালনা পর্ষদে যোগ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করুন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পিত ও সুশাসিত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকিং খাত আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, আমরা চাই খাতটি টেকসইভাবে এগিয়ে যাক এবং দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখুক।
খবরওয়ালা/টিএসএন