খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও উপজেলা বাজারে গরু ও মহিষের মাংসের ক্রয়-বিক্রয় তুঙ্গে পৌঁছেছে। তবে ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুরদের পক্ষে এই মাংস কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবারের শিশুসহ সবার জন্য ঈদের আনন্দে মাংসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা অনেকের জন্য কেবল স্বপ্নের মতো হয়ে গেছে।
মৌলভীবাজারের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতারা কেজি প্রতি মাংস কিনতে আগ্রহী। কেজিপ্রতি দাম এলাকায় এলাকায় পার্থক্যসহ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত দেখা গেছে। স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষরা জানান, সাধারণ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গরুর মাংস কেনা তাদের জন্য এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁরা বলেন, “চাল-ডাল কেনাও কঠিন হয়ে গেছে, সেখানে গরুর মাংস কেবল স্বপ্নের মতো। অনেক সময় তিন-চার মাসেও ব্রয়লার মুরগির মাংস খাওয়ার সামর্থ্য হয় না।”
দিনমজুর সমুজ মিয়া বলেন, “গত কোরবানির ঈদে আমি গরুর মাংস খেতে পেরেছিলাম। এরপর প্রায় ১০ মাস ধরে আর খাওয়া হয়ে ওঠেনি। বাজারে ১ কেজি গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা। আমি সারা দিন কাজ করে মাত্র চার-পাঁচ শত টাকা আয় করি। দিনের শেষে চাল-ডালই অনেক কষ্টে হয়, গরুর মাংস তো অনেক বড় বিষয়।”
শ্রমজীবী রফিক মিয়া যোগ করেন, “প্রতিবছর কোরবানির ঈদে মাংস খাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়, কিন্তু বছরের বাকি সময়ে আমাদের মতো মানুষদের জন্য তা বিরল।”
মৌলভীবাজারের মাংস ব্যবসায়ী বেলায়ত মিয়া জানান, “যতটুকু চাহিদা আসে, আমরা তা বিক্রি করি। তবে দাম বেড়েছে। আগে যাদের কাছে ১০-২০ কেজি বিক্রি হতো, এখন তারা মাত্র ২-৩ কেজি কিনে। মধ্যবিত্তরা কিছুটা বেশি কিনলেও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় সীমিত।”
নিম্নে কয়েকটি এলাকায় ঈদকে সামনে রেখে গরুর মাংসের কেজি প্রতি দাম সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| উপজেলা/বাজার | কেজি প্রতি গরুর মাংসের দাম (টাকা) | কেজি প্রতি মহিষের মাংসের দাম (টাকা) |
|---|---|---|
| মৌলভীবাজার সদর | ৮০০ | ৮৫০ |
| শ্রীমঙ্গল | ৮৫০ | ৮৭০ |
| কমলগঞ্জ | ৮০০ | ৮২০ |
| জুড়ী | ৮২০ | ৮৫০ |
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাংসের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ কমে যাওয়া, খরচ বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে ঈদের আনন্দে মাংসের উপস্থিতি সীমিত হয়ে পড়ার কারণে সামাজিক ও মানসিক প্রভাবও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মৌলভীবাজারের সাধারণ মানুষদের জন্য এ ঈদে গরুর মাংস কিনা কেবল সৌভাগ্যের ব্যাপার হয়ে উঠেছে, আর দিনমজুর ও শ্রমজীবী পরিবারের জন্য এটি এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।