খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঈদের আনন্দের মাঝেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দুর্ঘটনাগুলো শনিবার (২১ মার্চ) রাত থেকে রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ফেনী, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর ও কক্সবাজারে ঘটেছে।
| জেলা | দুর্ঘটনার ধরন | নিহত | আহত |
|---|---|---|---|
| কুমিল্লা | বাস–ট্রেন সংঘর্ষ | ১২ | ২০+ |
| হবিগঞ্জ | পিকআপ খাদে পড়ে | ৪ | অজ্ঞাত |
| ফেনী | বাস–অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ | ৩ | ৩ |
| কিশোরগঞ্জ | পিকআপ–মোটরসাইকেল সংঘর্ষ | ২ | ১ |
| সুনামগঞ্জ | মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা | ২ | ১+ |
| নওগাঁ | ভটভটি উল্টে পুকুরে | ১ | ৫ |
| নাটোর | প্রাইভেটকার–ট্রাক সংঘর্ষ | ১ | ০ |
| কক্সবাজার | গাড়ি–মোটরসাইকেল সংঘর্ষ | ১ | ০ |
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া কচুয়া এলাকায় চট্টগ্রামগামী মেইল ট্রেনের সঙ্গে মামুন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস সংঘর্ষের ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী ও দুই শিশু রয়েছেন। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের ডিজিএম সুবক্তগীন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি রেলওয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনও পৃথক তদন্ত কমিটি তৈরি করেছে।
মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ খাদে পড়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- ইব্রাহীম (৪০), সজিব মিয়া (১২) ও আছমা আক্তার (৪০)। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, রাতের অন্ধকারে চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো মূল কারণ।
ফেনীর রামপুরে একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়, এতে তিনজন প্রাণ হারান। কিশোরগঞ্জে পিকআপভ্যানের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হন। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই বন্ধু মারা যান।
নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রকৌশলী জুলফিকার আলী (২৯) নিহত হন। কক্সবাজারের টেকনাফে গাড়ি ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে মো. আনিস (৩০) মারা যান।
প্রত্যেক এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার প্রয়োজন। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, রাতের সময়ে অন্ধকারে সড়কে অযত্ন, এবং নিয়ন্ত্রণ হারানো এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, বিশেষ করে নদী তীরবর্তী ও হাইওয়ে এলাকায়।
এই ঈদের মর্মান্তিক ঘটনা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। নিয়মিত সচেতনতা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন ছাড়া ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।