খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৫ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও জেলায় রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে আকস্মিক ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়েছে। কয়েক মিনিট স্থায়ী এই ঝড়ে ঘরবাড়ির টিন উড়ে গেছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু গ্রামে। তিন জেলায় মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কয়েকশ পরিবার।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম বানিয়াপাড়া গ্রামে সকালে কয়েক মিনিটের ঝড়ে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়। এতে ধান, কলা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কয়েকটি গ্রামে।
বানিয়াপাড়া গ্রামের এমদাদুল হক বলেন, ঝড়ের কারণে আশপাশের শতাধিক ঘরবাড়ি নিমিষে শেষ হয়ে গেছে। ফসলের জমিরও ক্ষতি হয়েছে। নাসিমা বেগম জানান, সকালে রান্না করছিলাম, হঠাৎ ঘরের চালা উড়ে গেল। জানি না কিভাবে ঠিক করব।
গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী বলেন, শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়েছে, অনেকে সবকিছু হারিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতম সাহা জানান, উদ্ধার কাজ চলছে, মেডিকেল টিম প্রস্তুত আছে এবং ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করে সহায়তা দেওয়া হবে।
একইদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায় আকস্মিক ঝড়। এতে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয় এবং আহত হন অন্তত তিনজন—বাদশা মিয়া (৪০), মামুদ মিয়া (৭০) ও শহিদুল ইসলাম (৪৬)।
স্থানীয়রা জানান, প্রবল বাতাসে বহু ঘরের টিন উড়ে যায়, আধাপাকা ও গোডাউন ঘর ভেঙে পড়ে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, মধ্য শ্রুতিধর ও চর নোহালী গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জাকিয়া খাতুন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলাতেও রবিবার ভোরে মাত্র ১৩ সেকেন্ডের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে পাঁচটি গ্রাম—পিয়াজুপাড়া, সুতাহারপাড়া, রায়মহল, ভিতারবাড়ী ও বাদামাবাড়ী। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত তিন শতাধিক পরিবার, আহত হয়েছেন কয়েকজন মানুষ ও গবাদিপশু।
ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, হঠাৎ প্রচণ্ড বাতাসে সব কিছু তছনছ হয়ে যায়। অনেকেই বলেন, কার টিন কার বাড়িতে গিয়ে পড়েছে, তা বোঝার উপায় ছিল না। পাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী জানান, চারটি গ্রামে তিন শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী রুবেল বলেন, প্রায় প্রতিটি বাড়িরই কোনো না কোনো ক্ষতি হয়েছে, তবে প্রাণহানি ঘটেনি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে চাল দেওয়া হবে এবং পরে টিনের ব্যবস্থা করা হবে।
উত্তরাঞ্চলের এই তিন জেলার মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। প্রশাসন বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
খবরওয়ালা/শরিফ