রাজধানীর উত্তরায় রেললাইন পার হওয়ার সময় দুই ট্রেনের মাঝখানে পড়ে শাহনাজ বেগম (৫৫) নামে এক দিনমজুর নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহনাজ বেগম ওই দিন উত্তরার আজমপুর এলাকায় নির্মাণকাজে দিনমজুর হিসেবে কাজ শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। প্রতিদিনের মতোই তিনি ব্যস্ত রেললাইন পারাপারের পথ ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু রেললাইন পার হওয়ার সময় হঠাৎ করেই দুই দিক থেকে দুটি ট্রেন আসতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি দুই ট্রেনের মাঝখানে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও রাত সাড়ে বারোটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রেলওয়ে থানা কাজ করছে।
নিহতের ছেলে সুজন বলেন, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে মায়ের মরদেহ দেখতে পান। তিনি জানান, তার মা দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে সংসারে সহায়তা করতেন। ঘটনার দিন তিনি উত্তরার আজমপুর এলাকায় ঢালাইয়ের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। রেললাইন পার হওয়ার সময়ই হঠাৎ দুই দিক থেকে ট্রেন চলে আসায় তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহনাজ বেগম জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার প্রয়াত মিলন মিয়ার স্ত্রী ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার টঙ্গী রেলগেট এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং বিভিন্ন নির্মাণশ্রমের কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় রেললাইন পারাপারের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে দ্রুতগতির ট্রেন চলাচলের কারণে সাধারণ পথচারীরা অনেক সময় বিপদের মুখে পড়ে যান।
এই দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা রেললাইন পারাপারের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজ বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
শাহনাজ বেগমের মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। জীবিকার জন্য প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করা এই নারীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় একটি করুণ স্মৃতি হয়ে রইল।