খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
খুলনা অঞ্চলের অপরাধ জগতের অন্যতম আলোচিত ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘আশিক গ্রুপ’–এর দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড় এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬-এর একটি আভিযানিক দল। গ্রেপ্তারকৃত এই দুই সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে খুলনা মহানগর ও এর আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ইমন শরীফ (২৭) ও সজল খান (২৫)। র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুজনই ‘আশিক গ্রুপ’–এর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয় সদস্য। এদের মধ্যে ইমন শরীফ খুলনা মহানগরের লবণচরা থানার মতিয়াখালী এলাকার এবং সজল খান চানমারী বাজার এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে র্যাব তাঁদের সংশ্লিষ্ট লবণচরা থানায় হস্তান্তর করেছে।
খুলনা মহানগরী এবং জেলা জুড়ে বর্তমানে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনীর নাম সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় এখন নয়টি শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। এই অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে—বি-কোম্পানি, পলাশ গ্রুপ, হুমা বাহিনী, আরমান গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ, নাসিম গ্রুপ, আশিক গ্রুপ, নূর আজিম গ্রুপ এবং টেংকি শাওন গ্রুপ। এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই গ্রুপগুলো প্রায়ই নিজেদের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারফ হোসেন আমাদের প্রতিনিধি কে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ইমন শরীফ ও সজল খানের বিরুদ্ধে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) বিভিন্ন থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। ওসি আরও জানান, ইমন শরীফকে লবণচরা এলাকার এক নামকরা ব্যবসায়ীর বাড়িতে চাঁদা দাবি করার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইমন ও তার সহযোগীরা তাঁর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই চাঞ্চল্যকর অগ্নিসংযোগ মামলার প্রধান আসামি খোদ আশিক গ্রুপের মূল হোতা আশিক। অন্যদিকে, সজল খানের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় আগের একটি নিয়মিত মামলা থাকায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান থেকে খুলনার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসে খুলনা মহানগরীতে ১৯টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে নগর জুড়ে সংঘটিত আরও ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিভিন্ন স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো দাবি করেছে, এই অঞ্চলের অধিকাংশ খুনের ঘটনার মূল কারণ হলো অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকের বাজার নিয়ন্ত্রণ, বড় বড় ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর পারস্পরিক আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের পুরোনো শত্রুতা। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।