খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
উত্তর কোরিয়া আবারও সামরিক শক্তির প্রদর্শন করল। পিয়ংইয়ং ঘোষণা দিয়েছে, তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত ও আধুনিক করা হবে—এ কাজ হবে ধারাবাহিক, সীমাহীন এবং রাষ্ট্রীয় কৌশলের অংশ হিসেবে। গত রোববার দেশটি সমুদ্রসীমা থেকে দূরপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্দিষ্ট কক্ষপথ অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ’র বরাতে সোমবার প্রচারিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষা সফল হওয়ায় কিম সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য হুমকির মুখে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তি ক্রমাগত যাচাই ও উন্নয়ন করা একটি ‘দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত’ এবং দেশের সার্বভৌম নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র পথ।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, পিয়ংইয়ংয়ের সুনান এলাকা থেকে একাধিক মিসাইল ছোড়া হয়। সিউল এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সতর্ক করে দেয় যে, বছরের শেষভাগে উত্তর কোরিয়া আরও বড় পরিসরে উসকানিমূলক কর্মসূচি বা উচ্চক্ষমতায় সামরিক পরীক্ষা চালাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক পরীক্ষা কেবল দক্ষিণ কোরিয়াই নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেও কূটনৈতিক চাপে ফেলতে পারে। বিশেষত ২০২৬ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেসে পরবর্তী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা হওয়ার কথা—তার আগে শক্তি প্রদর্শন করে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে চাইছেন কিম জং-উন। তিনি সামরিক কারখানা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প এবং রণতরী উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ঘটনাটির কয়েকদিন আগেই কিম ৮ হাজার ৭০০ টন ওজনের বিশাল পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার মেয়ে কিম জু-আয়ে, যাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনের সময় কিম কঠোরভাবে মন্তব্য করেন—দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন কর্মসূচি উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য গভীর হুমকি এবং এর জবাব তারা যথাযথভাবেই দেবে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং সামরিক উন্নয়নেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ঘনীভূত হওয়ায় কিম আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন বলে আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়ার প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন ও সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।
নিচের সারণীতে সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| সময়/ঘটনা | বিবরণ |
|---|---|
| রোববার (উল্লেখিত তারিখ) | কৌশলগত দীর্ঘপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সফল |
| কয়েক দিন আগে | ৮,৭০০ টন পারমাণবিক সাবমেরিন পরিদর্শন, উপস্থিত কিম জু-আয়ে |
| সম্ভাবনা | বছরের শেষ দিকে নতুন সামরিক পরীক্ষা বা প্ররোচনামূলক পদক্ষেপ |
| ২০২৬ সালের শুরু | ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেস, উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা |
পিয়ংইয়ং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—পারমাণবিক বাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পর্যায়ে নিয়ে যেতে তারা কোনো বাধাকেই গুরুত্ব দেবে না। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে; কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনার পাল্লা আরও ভারি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।