উপল বড়ুয়া
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
বৃষ্টিদিনে, জঙ্গলে
বৃষ্টিহানা দিনে
আমরা ঘুরতে
যাব জঙ্গলে
বৃষ্টি পড়বে
গুলির মতন
দৃষ্টি হবে খুন
বুকের মাংস
খুবলে খাবে
ক্ষুধার্ত শকুন
আকাশ কালো
আচমকা বিদ্যুৎ
চমকাতে দেখে
হরিণ দেবে ছুট
তোমার হয়তো
এসব কিছু হুট
করে লাগতে পারে
ঝুটঝামেলার
লাগতেই পারে
ভীষম অদ্ভুত!
বৃষ্টি দেখে ভীত
বৃষ্টি পালিয়ে
গেলে বন কাঁপিয়ে
তুমিও দিয়ো দৌড়
একনিশ্বাসে, একটু
দূরে দাঁড়িয়ে দেখো
সবুজ জঙ্গল আজ
হয়েছে কেমন ঘন।
জঙ্গলে বসে লেখা
এই কবিতাটা তোমার জন্য
জঙ্গলে বসেই লিখেছি—
পড়লে হয়তো এখনো কিছু
বনতুলসীর ঘ্রাণ, হাতিশুঁড়ের
দৃশ্য পেতে পারো।
খুব বেশি টাটকা নেই, যা একটু
আছে তোমার জন্যই এনেছি
কিছুটা কবিতা, খানিক গল্প করে।
মায়ের দেওয়া ভাজা মাছ খেতে
খেতেই আমার কবিতাটা পড়ো
জঙ্গল থেকে এনেছি, ভরদুপুরে
মৃত বনমুরগির পালক দিয়ে
লিখেছি সবুজ শটিপাতায়।
বনের ভেতর
বনের ভেতর পথ হারাল ঘোড়া
বনের ভেতর সহিস ডাকে হ্রেষায়
বনের মধ্যে আন্ধার নামে নেশায়
বনের মনে এখন তারা দু জোড়া।
দু জোড়াতে বন কাঁপাল, ভাঙাল
আড়মোড়া, পাতারা ডাকল হিস
দাঁড়ায়া দাঁড়ায়া ঘোড়া ঘুমাল
ঘোড়ার ওপরে সহিস।
বনে, মৃত্যু
আবার যদি মরি—মরব ভোরে। শহর থেকে একটু দূরে। কুয়াশা থাকবে, হালকা শীত। জনশূন্যে ঘেরা। এমন দিনে ঘাসের ওপর পড়ব শুয়ে৷ আরেকটু পর মারা যাব। এসব ভেবে জল গড়াবে চোখের কোনা বেয়ে। ব্যথা তো নেই, কোন সে ব্যথায় মরতে এলাম বনে? ভাবতে ভাবতে শেষনিশ্বাসে দেহখানা শিয়ালে নেবে টেনে।