খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
চলতি বছর একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ কোটা যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কোটা না রাখার পরামর্শ দিয়েছিলো ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে অবশেষে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ কোটা রেখে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা এবার একাদশ শ্রেণিতে দুই কোটায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।
জানা যায়, এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের পর একাদশে ভর্তি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এ নীতিমালার একটি খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তাতে মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ৫৫ বছর আর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ‘কোটা রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই’ বলে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে বোর্ডের খসড়ায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থী, শহিদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আগামী দুই বা তিন বছরের জন্য কোটা রাখা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষা বোর্ডের ওই খসড়া নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন এনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ভর্তি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোটাও রাখা হয়েছে। তবে উভয় কোটাতে যদি শিক্ষার্থী না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে শূন্য আসনে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রকৃতভাবেই বিবেচনার যোগ্য। তবে বাইরে নানামুখী সমালোচনা ও বিতর্ক ওঠায় এ কোটা বাদ দেওয়া হচ্ছে না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটা এবং গণঅভ্যুত্থান কোটা- দুটিই রাখা হবে। তবে কোটায় কোনো শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম অনুযায়ী ভর্তি করানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোটা চলতি বছর রাখা হবে। আগামী বছর থেকে এ কোটা বাতিল করা হতে পারে। তাছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তির ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা তুলে দেওয়া হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
২০২৪ সালে প্রণীত সবশেষ নীতিমালা অনুযায়ী—একাদশ শ্রেণিতে বর্তমানে মেধা কোটায় ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো হয়। অর্থাৎ, সবার জন্য ৯৩ শতাংশ আসন উন্মুক্ত। বাকি ৭ শতাংশ বিভিন্ন কোটায় ভর্তি করানো হয়। যার মধ্যে ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য। বাকি ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন ২৮টি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য রাখা হয়। এবারের নীতিমালায় কোটা বণ্টন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
খবরওয়ালা/এফএস