খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৫, ১১:৫৬ এএম
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ক্রমাগত খুন, হামলা ও চুরির ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজনৈতিক বিরোধ, জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, বালু ও মাটির ব্যবসা এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্বে ঘটছে একের পর এক প্রাণহানি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে উপজেলায় আটটি হত্যাকাণ্ড ও তিনটি লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
নোয়াপাড়ায় গত ২৪ জানুয়ারি প্রকাশ্যে গুলি করে খুুন করা হয় মো. জাহাঙ্গীর আলমকে (৫৫), ১৯ ফেব্রুয়ারি পিটিয়ে হত্যা করা হয় মুহাম্মদ হাসানকে (৩৫), ১৫ মার্চ ইফতার বিতরণ নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় নিহত হন কমর উদ্দিন জিতু (৩৬), ২১ মার্চ গরু চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন মো. রুবেল (৩৫) নামের এক যুবক, ১ এপ্রিল জমি নিয়েপারিবারিক বিরোধে খুন হন নূর আলম বকুল (৪৩), ৩ জুলাই উরকিরচরে কিশোরদের ধূমপান নিয়ে ঝগড়া থামাতে কিশোরদের হামলায় প্রাণ হারান মো. আলমগীর, ৬ জুলাই কদলপুরে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মুহাম্মদ সেলিমকে (৪০)। শুধু খুন নয়, রাতের অন্ধকারে প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, গরু, দোকান ও বসতঘর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ কর্মকাণ্ড বিচ্ছিন্ন নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিক রূপ। তারা মনে করেন, অপরাধীদের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থ ও পেশিশক্তির ছত্রছায়া থাকায় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ফলে অপরাধীরা হয়ে উঠছে আরও বেপরোয়া।
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সচেতনতামূলক সভাও করা হচ্ছে।
খবরওয়ালা/টিএস
মন্তব্য