খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন যে, তিনি ২০১২ সালে এপস্টিনের মালিকানাধীন সেই বিতর্কিত দ্বীপে গিয়েছিলেন। এই স্বীকারোক্তি মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ ইতিপূর্বে তিনি বারবার দাবি করেছিলেন যে ২০০৫ সালের পর এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না।
গতকাল মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় লুটনিক এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর তিনি সপরিবারে ওই দ্বীপে গিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, “ছুটিতে পরিবার নিয়ে একটি নৌকায় ভ্রমণকালে আমি তাঁর (এপস্টিন) সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম। ওই সময় আমার সঙ্গে আমার স্ত্রী ও চার সন্তান ছিল। আমরা ওই দ্বীপে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম— এটি সত্য। তবে সেটি ছিল মাত্র এক ঘণ্টার জন্য।”
এই স্বীকারোক্তিটি লুটনিকের আগের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি এর আগে কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন যে, ২০০৫ সালেই তিনি এপস্টিনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। প্রতিবেশী হিসেবে এপস্টিনের সাথে তাঁর সখ্যতা থাকলেও তাঁর বাড়ির একটি কক্ষে ‘ম্যাসাজ টেবিল’ রাখা এবং এর পেছনে ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ ব্যাখ্যার পর তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু নতুন সাক্ষ্যে তিনি স্বীকার করেছেন যে, পরবর্তী ১৪ বছরে আরও অন্তত দুবার এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল।
নিচে হাওয়ার্ড লুটনিক ও জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত নথিপত্রের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও তথ্যসূত্র |
| সফরের তারিখ | ২৩ ডিসেম্বর, ২০১২ |
| সফরের স্থান | লিটল সেন্ট জেমস আইল্যান্ড (এপস্টিনের দ্বীপ) |
| সাক্ষ্য প্রদানের স্থান | ক্যাপিটল হিল শুনানি (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) |
| পূর্ববর্তী দাবি | ২০০৫ সালে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেছিলেন |
| বিপত্তি | ২০০৮ সালেই এপস্টিন যৌন অপরাধী হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত হন |
| প্রকাশিত নথিপত্র | মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক অবমুক্তকৃত ইমেইল ও চিঠি |
লুটনিকের এই সফরের তথ্যটি মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত গোপন নথিপত্রে অন্তর্ভুক্ত ছিল। নথিপত্র অনুযায়ী, লুটনিক যখন ২০১২ সালে ওই দ্বীপে যান, তার চার বছর আগেই ২০০৮ সালে শিশুদের যৌনকর্মে বাধ্য করার দায়ে এপস্টিন দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর ব্যক্তিগত দ্বীপে সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সফরকে নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন আইনপ্রণেতারা।
লুটনিকের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুনানিতে তিনি লুটনিককে লক্ষ্য করে বলেন যে, এই ধরনের লুকোচুরি কেবল নীতিগতভাবে ভুল নয়, বরং তা মার্কিন জনগণের আস্থার পরিপন্থী। রিপাবলিকান থমাস ম্যাসি এবং ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য রো খান্না একযোগে বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। রো খান্না ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রকাশিত নথিপত্রে আরও কিছু প্রভাবশালীর নাম রয়েছে যা আগে আড়াল করা হয়েছিল।
পদত্যাগের দাবি জোরালো হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখনো লুটনিকের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। গতকাল হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, বাণিজ্যমন্ত্রী লুটনিকের ওপর প্রেসিডেন্টের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। লুটনিক তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন যে, এপস্টিনের কয়েক লাখ পৃষ্ঠার নথির মধ্যে মাত্র ১০টির মতো ইমেইলে তাঁর নাম এসেছে এবং ওই ব্যক্তির সাথে তাঁর কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল না।
লুটনিকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা না হলেও, সত্য গোপনের এই ঘটনাটি তাঁর পেশাদারিত্ব ও সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মার্কিন রাজনীতিতে ‘এপস্টিন ফ্যাক্টর’ যেভাবে ফিরে আসছে, তাতে সামনের দিনগুলোতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।