খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চার দেশে ঘূর্ণিঝড়, ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগগুলি রবিবার সন্ধ্যা থেকে কিছুটা কমলেও, এখনও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১৪০-এর বেশি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কা। উভয় দেশে সেনাবাহিনী আহত ও বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার ও সহায়তার কাজে মোতায়েন করা হয়েছে। থাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে, আর মালয়েশিয়ায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা, দক্ষিণ থাইল্যান্ড এবং উত্তর মালয়েশিয়ায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় প্রায় পুরো দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। ইন্দোনেশিয়ায় অন্তত ৬০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ। তবে সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেনি। শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।
শ্রীলঙ্কায় ‘ডিটওয়া’ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে অন্তত ৩৬৬ জন নিহত হয়েছেন। কলম্বোর বন্যার পানি রবিবার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়, যদিও আজ সকালে পানি কমতে শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে জাতীয় জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়ে পুনর্গঠনের আশা প্রকাশ করেছেন।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ১৭৬ জন মারা গেছে, যা দেশটিতে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। মালয়েশিয়ার পার্লিস রাজ্যে তিনজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্যোগ প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় অবকাঠামো ও জরুরি প্রস্তুতির প্রয়োজন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।