খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
ইতিহাসের বুকে অমর হয়ে আছেন সংগ্রামী নেতার প্রতিমূর্তি, বাংলার নির্ভীক সন্তান মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ। জন্ম ১৯০০ সালের ২৭ নভেম্বর, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা উপজেলার তারুটিয়া গ্রামের এক সম্মানিত পীরবংশে। পিতা শাহ সৈয়দ আবু ইসহাক ও মাতা আজিজুন্নেছার স্নেহে বেড়ে ওঠা এই মহাপুরুষ অল্প বয়স থেকেই সত্যের পক্ষে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে স্বভাবগতভাবে দৃঢ় ছিলেন।
তর্কবাগীশ ছিলেন শুধু একজন আলেম নন
তিনি ছিলেন একজন জাগ্রত চেতনার মানুষ, যে চেতনা যুগে যুগে জাতিকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তাঁর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বেই ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি সলঙ্গা হাটে বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনের সময় ব্রিটিশ পুলিশের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। বাংলার ইতিহাসে পরিচিত ‘সলঙ্গা গণহত্যা’, যেখানে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে ধারণা করা হয়। তিনি আহত হয়েও থামেননি-বরং আরো দৃঢ়তায় এগিয়ে গেছেন।
বাংলা ভাষা আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে অমর।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণাদাতা ছিলেন তিনি।
আরো বড় প্রমাণ-১৯৫৫ সালের ১২ আগস্ট পাকিস্তানের গণপরিষদে প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার সাহস রেখেছিলেন তিনিই। সেই মুহূর্তে তিনি শুধু ভাষার দাবিই জানাননি, বরং বাঙালির আত্মপরিচয়কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছিলেন।
১৯৫৬ থেকে ১৯৬৭ পুরো এক যুগ তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
খেলাফত আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন—দেশ ও জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে তিনি ছিলেন অগ্রণী, নির্ভীক, আপসহীন।
তর্কবাগীশ ছিলেন এক অর্থে মুক্তির সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাস।
দীর্ঘ সংগ্রামমুখর জীবন শেষে
১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট, রাতের শেষ প্রহরে, তৎকালীন পিজি হাসপাতালে তিনি পরপারে পাড়ি জমান।
কিন্তু তিনি রেখে গেছেন সংগ্রামের অনন্য দৃষ্টান্ত, সাহসের এক অমর ধারা, বাংলার আরেক নাম-অবিনাশী প্রতিরোধের প্রতীক।
মুক্তির পথযাত্রী এই মহান নেতার প্রতি
অন্তহীন শ্রদ্ধা, গভীর কৃতজ্ঞতা-
শ্রদ্ধাঞ্জলি।
খবরওয়ালা/টিএসএন