যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ইস্ট ব্রিজওয়াটারে ওষুধ পৌঁছে দিতে গিয়ে গুরুতর চলাফেরাজনিত সমস্যায় ভোগা এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে কাইসার আলী (৩৯) নামের এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত কাইসার ম্যাসাচুসেটসের ব্রকটন এলাকার বাসিন্দা।
ইস্ট ব্রিজওয়াটার পুলিশের দেওয়া এজাহার অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ২ আগস্ট। একটি নিবন্ধিত ফার্মাসিউটিক্যাল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে ওই নারীর বাড়িতে ওষুধ দিতে গিয়েছিলেন কাইসার। সেখানে পৌঁছে কোনো অনুমতি না নিয়েই তিনি অবৈধভাবে গৃহকোণে প্রবেশ করেন। এরপর হুইলচেয়ারে থাকা গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই নারীকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার অনুপযুক্ত ও অশালীনভাবে স্পর্শ করেন বলে প্রাথমিক অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিস্তারিত পুলিশকে জানানোর পর গত ৫ আগস্ট ইস্ট ব্রিজওয়াটার থানা-পুলিশের একদল গোয়েন্দা সদস্য বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির সরবরাহকৃত তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি ডেলিভারির দিন ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের টয়োটা ক্যামরি গাড়ি শনাক্ত করেন। সমস্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ কাইসার আলীকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখায়।
পুলিশ বর্তমানে অভিযুক্ত কাইসারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর আইনি ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
-
ধর্ষণের উদ্দেশ্যে হামলা
-
বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ওপর হামলা ও ব্যাটারি (শারীরিক নির্যাতন)
-
বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ওপর অশালীন হামলা ও নির্যাতন
-
জনসমক্ষে অশালীন প্রকাশ
-
দিনের বেলায় কোনো বসতবাড়িতে অবৈধ ও অননুমোদিত প্রবেশ
আদালতে সোপর্দের পর বিচারক তাঁর ১০ হাজার মার্কিন ডলার জামিন নির্ধারণ করেন এবং তাঁকে জেলা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে কাইসারকে ব্রকটন জেলা আদালতে হাজির করা হলে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় দোভাষী পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা তৈরি হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এই ঘটনাটি ম্যাসাচুসেটসের স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এর প্রধান কারণ, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো অনুপ্রবেশকারী ছিলেন না; তিনি পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে ফার্মেসির ডেলিভারিম্যান হিসেবে ভুক্তভোগীর দোরগোড়ায় পৌঁছেছিলেন। সেই কাজের সুযোগ নিয়েই তিনি অসহায় নারীর সঙ্গে এমন অপরাধ করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে মার্কিন আইনি ধারা অনুযায়ী, আদালতে অপরাধ পুরোপুরি প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাইসার আলী আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। এই মামলার তদন্ত এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং স্থানীয় প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে আদালতের পরবর্তী শুনানিতে আরও বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হবে।
মন্তব্য