কটিয়াদীতে পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে বাবা-মেয়েসহ নিহত ৩

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের বাবা ও পাঁচ বছরের মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। রোববার দুপুরে ভৈরব–কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের আচমিতা ইউনিয়নের তেবাঘা এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন তাড়াইল উপজেলার মিলন মিয়া (৩০), তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে জারা মনি এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার রাবেয়া বেগম (৪০)। আহত পাঁচজনের মধ্যে পিয়া ও রবিউল আলমের নাম জানা গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সময় তাঁরা সবাই অটোরিকশাটির যাত্রী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কটিয়াদীর দিকে যাচ্ছিল। চালকসহ অটোরিকশাটিতে মোট সাতজন ছিলেন। বেলা প্রায় দুইটার দিকে তেবাঘা এলাকায় পৌঁছালে সামনে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেন চালক।

ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে একটি পিকআপ আসছিল। কাভার্ড ভ্যানটিকে পাশ কাটানোর সময় অটোরিকশাটির সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে এবং পরে উল্টে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ঘটনাস্থলেই মিলন মিয়া ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে জারা মনি মারা যান। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে দ্রুত কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্য পাঁচ আহত ব্যক্তিকেও প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত কয়েকজনের মাথায় আঘাত রয়েছে।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের কয়েকজনের মাথায় আঘাত পেয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক নবী নুর তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাভার্ড ভ্যানকে অতিক্রম করার সময় অটোরিকশাটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে।

দুর্ঘটনার পর পুলিশ পিকআপটি জব্দ করেছে। তবে এর চালককে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা যায়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এতে কারও দায়িত্বহীনতা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে মিলন মিয়া ও তাঁর শিশু কন্যা জারা মনির একসঙ্গে প্রাণ হারানোর ঘটনা। স্বজনদের জন্য মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের যাত্রা পরিণত হয়েছে অপূরণীয় শোকে। স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় নেমে এসেছে শোকের আবহ।

ভৈরব–কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মতো ব্যস্ত সড়কে একটি যানবাহনকে অতিক্রম করার সময় সামান্য ভুলও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে বিপরীত দিক থেকে যানবাহন আসার সম্ভাবনা থাকলে নিরাপদ দূরত্ব, গতি এবং দৃশ্যমানতা বিবেচনা না করে অতিক্রমের চেষ্টা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই দুর্ঘটনাও সড়কে দায়িত্বশীলভাবে যানবাহন চালানো এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিক্রমের প্রবণতা এড়িয়ে চলার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

Tags :

মোঃ সাকিব হোসেন | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।