খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি সব ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে উদ্যাপন করা হলো দুই দিনের ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের এবারের মূল স্লোগান ছিল ‘সংস্কৃতিবিরোধী আস্ফালন রুখে দেবে কবিতা’। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবিরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
সমাপনী দিনের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় তারুণ্যের গান দিয়ে। শিল্পী সুনীল দাস ও তাঁর দল সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর নিবন্ধিত কবিদের কবিতাপাঠ পর্ব শুরু হয়। মধ্যাহ্নবিরতির আগে তিনটি পর্বে কবিরা তাঁদের সৃষ্টি উপস্থাপন করেন। এই তিন পর্বে সভাপতিত্ব করেন গোলাম শফিক, মনজুর রহমান ও আবু সাঈদ খান।
মধ্যাহ্নবিরতির পর অনুষ্ঠিত হয় সেমিনার ‘৭১ থেকে ২৪: গণ-আন্দোলনে কবিতার ভূমিকা’, যেখানে মূল আলোচক গণবুদ্ধিজীবী অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান ভাষা ও কবিতার গভীর সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “শুধু ভাষা বা ছন্দ মিললেই কবিতা হয় না, ভাবের সংযোগ অপরিহার্য। কবিরা সেই গভীর ভাবকে তাঁদের কাব্যে প্রকাশ করেন।” তিনি বাংলা ভাষার বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, “উচ্চতর আদালত, বেসরকারি অফিস ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলার ব্যবহার দিন দিন কমছে।”
সভাপতি অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, “কবিতা সমকালকে ধারণ করে। কবিরা সময়ের অভিব্যক্তি তাঁদের কবিতায় প্রকাশ করেন, ফলে কবিতা চিরকালীন হয়ে ওঠে।”
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কবি সাখাওয়াত টিপু। সঞ্চালনা করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান।
শেষে হরষিত বালার সভাপতিত্বে শেষ কবিতাপাঠ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত কবিদের আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে দুই দিনের উৎসবের সমাপনী ঘটে।
উৎসবের মূল তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| আয়োজক | অনুষ্ঠানকাল | স্থান | প্রধান স্লোগান | মূল আলোচক | সভাপতিত্বকারী | বিশেষ আয়োজন |
|---|---|---|---|---|---|---|
| জাতীয় কবিতা পরিষদ | ১–২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার | সংস্কৃতিবিরোধী আস্ফালন রুখে দেবে কবিতা | অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান | অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, হরষিত বালা | কবিতাপাঠ, আবৃত্তি, সেমিনার, সংগীত-নৃত্য |
এই উৎসব দেশের কবি ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে—সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জকে কবিতা রোধ করতে সক্ষম।