খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় নিজ কর্মস্থল ভূটিয়ারকোণা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদ লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
৮ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ধেরুয়া কড়েহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিচ্ছেন। এসময় আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঘটে যাওয়া এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং পুরো উপজেলায় আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগকারী অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদ জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে থেকেই তার সঙ্গে বিরোধ চলছিল কলেজের গণিত শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তালুকদার, ধর্ম শিক্ষক সাজেদুল ইসলাম, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলাম রতন ও আনোয়ার হোসেনের। ৫ আগস্টের পর এই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়।
তিনি বলেন, ‘তারা আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। না দিলে কলেজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। বহিরাগতদের সহায়তায় কয়েকবার চেষ্টা চালায়। এরপর তাদের সঙ্গে যোগ দেন মাওহা ইউনিয়ন জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালি উল্লাহ, স্থানীয় রুমি মিয়া, সাইকুল ইসলামসহ অনেকে।’
অধ্যক্ষের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে কলেজ থেকে বের করে দেন। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তার অপসারণ দাবিতে গত বছরের জুলাই থেকে ছাত্র-জনতার একটি অংশ আন্দোলন শুরু করে। ৫ আগস্টের পর তাকে পদ থেকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয় ধর্মের শিক্ষক সাজেদুল ইসলামকে। পরে ১৭ অক্টোবর স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে তাকে পুনরায় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর থেকে একটি পক্ষ তাকে কলেজে প্রবেশে বাধা দেয় এবং তার কক্ষে তালা লাগানো হয়।
মাওহা ইউনিয়ন জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালি উল্লাহ বলেন, ‘ইউএনওর পরামর্শে স্যারকে কলেজে যেতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যসহ ১৩টি অভিযোগে অভিযুক্ত। তাই মানুষ সহজে মেনে নিচ্ছে না। ঘটনার সময় আমি বাধা দিয়েছিলাম। দায় আসলে স্যারের নিজের।’ তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
শিক্ষক সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘৩০ বছর স্যারের সঙ্গে শিক্ষকতা করছি। আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা নিতে আমি আগ্রহী ছিলাম না। তবে এখানে দুটি পক্ষ তৈরি হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্যারের সঙ্গে যে অশোভন আচরণ করা হয়েছে, তার বিচার হওয়া উচিত।’ তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আঞ্জুমানারা বেগম জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেও কোনো মন্তব্য না করে কেটে দেন।
গৌরীপুর থানার ওসি দিদারুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে গোলাম মোহাম্মদ মারধরের অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন