ফরিদপুরের মধুখালীতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. রাজিব মোল্লা (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে বোয়ালমারী উপজেলার চিতের বাজার এলাকার জনতা জুটমিল থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ফরিদপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন গ্রামে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল ওই কিশোরী। সে সময় তার মা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে অভিযুক্ত রাজিব মোল্লা ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা বলে জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মধুখালী থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায় পুলিশ। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে বোয়ালমারীর চিতের বাজার এলাকার জনতা জুটমিল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় জানান, মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কিশোরীর প্রতি যৌন সহিংসতার অভিযোগটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগের বিষয় হলো, এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, শারীরিক চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহ এবং আদালতে অভিযোগের বিচার হয়। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


