কুমারখালীর এতমামপুর ঠাকুরবাড়ি সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ চত্বরের আড়ং ক্রেতা শূণ্য

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ঘড়ির কাটায় বিকেল ৩ টা বেজে ৪৩ মিনিট। তখনও ক্রেতা শূণ্য কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের এতমামপুর ঠাকুরবাড়ি সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ চত্বরের আড়ংয়ে ( গ্রামীণ মেলা)। প্রায় সাড়ে তিনঘণ্টা পসরা সাজিয়ে বসে থেকে এক টাকার পণ্যও বিক্রি করতে পারেননি বলে জানান মাটির তৈজসপত্র বিক্রেতা সুশীল কুমার পাল (৬২)। তিনি বলেন, অতীতের মতো মেলায় আর জৌলুশ নেই। ঠাকুরবাড়ির সুমিত্র চক্রবর্তী বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি ও বৃষ্টির কারনে এবার পূজার শুরুতে উৎসব নিয়ে বেশখানেক শঙ্কা ছিল। তবে শঙ্কা কাটিয়ে পূজায় উৎসব আমেজ থাকলেও আড়ংয়ে লোক নেই।

বেচাকেনাও নেই। দূর্গা প্রতিমা বিসর্জনের দিন এলেই আড়ং বসে এতমামপুর ঠাকুরবাড়ি সার্বজনীন পূজামণ্ডপ চত্বরে। সেখানে শৈশব থেকেই জিলাপি ও খইয়ের দোকান বসিয়ে আসছেন মো. শোয়েব আলী (৫৩)। আগে জমজমাট বিক্রি হলেও দিন দিন আড়ং জৌলুস হারিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। রোববার ( ১৩ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঠাকুরবাড়ি পূজামণ্ডপের সামনের ফাঁকা মাঠ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। চারপাশে সুনসান নীরবতা। মাটির তৈজসপত্র, খই, জিলাপি ও মিষ্টি নিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা।

কুমারখালীর এতমামপুর ঠাকুরবাড়ি সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ চত্বরের আড়ং ক্রেতা শূণ্য

তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা হাতেগোনা। এতমামপুর ঠাকুরবাড়ি সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি সুকুমার চক্রবর্তী বলেন, সবই এখন স্মৃতি। দুই দশক আগেও প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে সেখানে দিনব্যাপী মেলা বসত। মাটির হাঁড়িপাতিল ও শিশুদের খেলনা, চিড়া, মুড়ি, ভুট্টার খই, জিলাপি, মিষ্টিসহ হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসতেন শত শত দোকানি। তিল ধারণের জায়গাও থাকত না আড়ংয়ে। জানা গেছে, প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে উপজেলার বহলবাড়িয়া, লালনবাজার ও গড়াই ইকোপার্ক সহ বিভিন্ন স্থানে বসে গ্রামীণ মেলা। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, হাতেগোনা কিছু দোকানি পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

গুগল নিউজে খবরওয়ালা ফলো করুন
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

তবে মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা খুব কম। লালনবাজার মেলায় মাটির তৈজসপত্র নিয়ে আসা বিপুল কুমার পাল (৬৫) বলেন, মেলার জন্য তিনি কয়েক মাস ধরে মাটির ব্যাংক, পুতুলসহ নানা জিনিস তৈরি করেছেন। এবারের মেলায় একেবারেই লোকজন নেই, বেচাকেনাও নেই। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ১৬০ টাকার বেচাবিক্রি হয়েছে তাঁর। খই বিক্রেতা মো. লিটন বলেন, মেলায় সাধারণত মানুষ সৌখিন জিনিসপত্র কিনতে আসে। কিন্তু সৌখিন এসব জিনিস এখন বারোমাসই বাজারে পাওয়া যায়। সেজন্য মানুষের মেলায় আসার আগ্রহ কমে গেছে। দেশের চলমান পরিস্থিতি ও বৃষ্টির শঙ্কা কাটিয়ে ব্যাপক উৎসব আমেজে ৫৪ টি মণ্ডপে এবার দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম। তিনি বলেন, মেলার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানানো যাবে।

আরও দেখুনঃ

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।