কুমিল্লাজুড়ে জেলা পুলিশের টানা ৪৫টি ঝটিকা অভিযান, গ্রেপ্তার ৮৪

কুমিল্লা জেলাকে মাদকমুক্ত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার অংশ হিসেবে একযোগে বিশাল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। জেলার মোট ১৮টি থানা এলাকায় মঙ্গলবার রাতভর পরিচালিত এই অভিযানে ৪৫টি স্থানে পুলিশ একযোগে হানা দেয়। এই বিশেষ কার্যক্রমে ৮৪ জন মাদক কারবারি ও সেবনকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরণের অবৈধ মাদকদ্রব্য।
বুধবার (১৯ আগস্ট) গ্রেপ্তার হওয়া ৮৪ জন আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।
অভিযানের সার্বিক বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের ধ্বংসাত্মক সামাজিক থাবা থেকে যুবসমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষা দেওয়া আমাদের প্রধান দায়িত্ব। একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ ও সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই এক রাতের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ৪৫টি পৃথক স্পটে তল্লাশি চালানো হয় এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
অভিযান পরিচালনার সময় কুমিল্লার সীমান্তঘেঁষা রুট, চিহ্নিত মাদকের আস্তানা এবং চোরাচালানের সম্ভাব্য পথগুলোতে পুলিশ একযোগে নজরদারি বাড়ায়। পুলিশের একাধিক চৌকস দল গোপন খবরের ভিত্তিতে এই সাঁড়াশি অভিযান চালায়, যার ফলে একাধিক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধী চক্রের সদস্য জালে ধরা পড়ে।
মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে সমাজকে মুক্ত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার প্রচেষ্টায় মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, অভিভাবক ও এলাকার সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করা এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মাদকের ব্যবসা, বিপণন বা সেবনের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্রকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সীমান্তে মাদকের অবৈধ প্রবেশ রোধ করা এবং ভেতরের বণ্টনব্যবস্থা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এমন বিশেষ ও ঝটিকা অভিযান আগামী দিনে আরও ব্যাপকভাবে জোরদার করা হবে।
Tags :

Shakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর