কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় দশ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সাথে জড়িত আশাদুল ইসলাম নামের বত্রিশ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে। সংবাদ পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গণপিটুনিতে গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু এবং উত্তেজিত জনতার মারধরের শিকার অভিযুক্ত ব্যক্তি—উভয়কেই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার একমাত্র আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি প্রক্রিয়া
থানায় দায়েরকৃত মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত রোববার সকাল আনুমানিক দশটার দিকে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার একটি স্থানে বত্রিশ বছর বয়সী আশাদুল ইসলাম ওই শিশুটিকে খাবারের প্রলোভন দেখায়। খাবারের কথা বলে সে শিশুটিকে ফুসলিয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। সেখানে জনমানবহীন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুর মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ পেলে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে আশাদুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দিলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। ঘটনার খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে এবং অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনার পর গত রোববার রাত আনুমানিক আটটার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটির পিতা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন, যা পরবর্তীতে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।
মামলার বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা
| বিষয়ের বিবরণ | নির্দিষ্ট ফ্যাক্ট ও তথ্য |
| ভুক্তভোগী | ১০ বছর বয়সী শিশু |
| অভিযুক্ত ও আসামি | আশাদুল ইসলাম (বয়স ৩২ বছর) |
| অপরাধের স্থান | কুষ্টিয়া পৌর এলাকার একটি বিদ্যালয় |
| অপরাধের সময় | গত রোববার সকাল ১০টা |
| আইনি পদক্ষেপ | কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের (রাত্রিকালীন) |
| মামলার বাদী | ভুক্তভোগী শিশুর পিতা |
| আসামির বর্তমান অবস্থা | পুলিশি হেফাজতে গ্রেপ্তার ও চিকিৎসাধীন |
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন ভর্তি থাকা দুইজনের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পরপরই ভুক্তভোগী শিশুটিকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ধর্ষণের আলামত ও অন্যান্য শারীরিক ক্ষতি নিরূপণের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করছেন। অন্যদিকে, গণপিটুনির শিকার অভিযুক্ত আশাদুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান যে, জনতার মারধরের কারণে তার শরীরে গুরুতর আঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। তাকেও হাসপাতালের একটি অংশে কড়া পুলিশি পাহারায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, শিশুটির বাবার দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে রোববার রাতেই থানায় নির্দিষ্ট আইনি ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি আশাদুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সে বর্তমানে পুলিশের প্রত্যক্ষ নজরদারিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নত হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে।



