খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
রংপুরের পীরগঞ্জে বিএডিসির সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি এবং পাহারারত কৃষক মফিজার রহমানকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। দীর্ঘ তদন্ত ও ছায়া তদন্তের পর গাইবান্ধা থেকে শহিদুল ইসলাম (৫৪) নামের এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুরান্দার এলাকার মফিজ উদ্দিন শেখের ছেলে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস পর অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে র্যাব-১৩-এর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে। র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই আত্মগোপনে থাকা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হন র্যাব সদস্যরা।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্রের বিবরণ থেকে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে কৃষক মফিজার রহমানের ফসলি জমিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা ছিল। ওই এলাকার কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মূল্যবান এই ট্রান্সফরমারটি যেন চুরি না হয়ে যায়, সেই সুরক্ষার কথা চিন্তা করে মফিজার রহমান প্রতিদিন রাতে সেচঘরের ভেতরেই ঘুমাতেন। নিজের ফসলের আর সরকারি সম্পদের পাহারা দিতে গিয়েই তাঁকে জীবন দিতে হলো।
গত ৭ মে সকালে এক প্রতিবেশী মাঠে কাজ করতে গিয়ে দেখতে পান যে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমারটি উধাও হয়ে গেছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনের মাধ্যমে মফিজার রহমানের পরিবারকে চুরির বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে মফিজার রহমানের স্বজন ও গ্রামবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, সেচঘরের দরজার শিকল বাইরে থেকে আটকানো রয়েছে।
ভেতরে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢোকার পর এক বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখতে পান সবাই। ঘরের মেঝেতে হাত-পা বাঁধা এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল কৃষক মফিজার রহমানের নিথর দেহ। চোর চক্রের সদস্যরা সেচঘরে ঢুকে মফিজার রহমানকে বেঁধে ফেলে এবং মাথায় ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর ঘরের সিলিং ও ট্রান্সফরমার ভেঙে ভেতরের মূল্যবান তামা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর ওই দিনই (৭ মে) নিহতের ভাই মনুয়ার হোসেন বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের পর থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাব-১৩ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং ওই এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
র্যাবের তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং মাঠপর্যায়ের নানা সূত্র ধরে এই চোর চক্রের সন্ধান পায়। তদন্তে এই চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে শহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়। এর পরপরই পলাশবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শহিদুল এই চুরি ও হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলামকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আদালতে সোপর্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট পীরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য অপরাধীদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।