ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে দুলাল (৪৫) নামে এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে তেঘরিয়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর মধ্যপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. মোজাম্মেল হোসেন (২৩)।
অভিযোগ অনুযায়ী, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মোজাম্মেল হোসেনদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরের আলমারিতে রাখা নগদ ৬০ হাজার টাকা এবং প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন মোজাম্মেল।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। আব্দুল্লাহপুর মধ্যপাড়ার সৈয়দ আলী ও রবিউলসহ কয়েকজনের সঙ্গে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে আগেও উত্তেজনা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিরোধের সূত্রপাত, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা সংশ্লিষ্ট জমির পরিমাণ সম্পর্কে অভিযোগে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মোজাম্মেলের অভিযোগ, ঘটনার রাতে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ঘরে থাকা মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে মোজাম্মেলের ফুফাতো ভাই দুলাল ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি মালামাল নিয়ে যাওয়ার কাজে বাধা দিতে গেলে তাঁকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুলালকে রক্ষা করতে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে দাবি করেছেন মোজাম্মেল। তবে আহত দুলালের আঘাতের ধরন, তাঁকে কোথায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে কেমন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
অন্যদিকে, অভিযোগে নাম আসা সৈয়দ আলী ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলেও জানান তিনি। সৈয়দ আলীর ভাষ্য, তাঁদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা এবং বিরোধের কারণে তাঁদের হেয় করার উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তদন্তে হামলা, ভাঙচুর, অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট এবং ছুরিকাঘাতের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের প্রকৃতি, ঘটনার সময় কারা উপস্থিত ছিলেন এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পেছনে কী ঘটেছিল, তা-ও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
জমির মালিকানা বা দখল নিয়ে বিরোধ অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। এ ধরনের বিরোধে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। আব্দুল্লাহপুর মধ্যপাড়ার এ ঘটনায়ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্তের ফলাফল বা এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ, কাউকে আটক কিংবা গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং দায়দায়িত্ব স্থির করার বিষয়টি তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।


