খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৮:১১ পিএম
ঢাকার কেরানীগঞ্জে রং তৈরির কারখানার আড়ালে গড়ে তোলা একটি মাদকের গোপন আড্ডার সন্ধান পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-২। অভিযানে ১৯ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি, মাদক তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এবং তৈরির নানা যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কারখানার মালিক নাসির হোসেনকে (২৮) আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের সাবান ফ্যাক্টরি মদিনানগর এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানার সামনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নাজমুল হাসান।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকা থেকে ১১ হাজার পিস ইয়াবাসহ ফয়সাল ইসলাম মিঠু নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মিঠুর দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মদিনানগর এলাকার ‘মদিনা কমপ্লেক্সের’ দ্বিতীয় তলায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-২-এর একটি চৌকস দল।
সেখানে ‘নাসির কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি আপাতদৃষ্টিতে বৈধ রং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ১৯ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি, ইয়াবা তৈরির উন্নত যন্ত্রপাতি এবং রাসায়নিক কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকেই হাতেনাতে আটক করা হয় কারখানার মালিক নাসির হোসেনকে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২-এর অধিনায়ক নাজমুল হাসান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নাসির হোসেন স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রায় এক দশক ধরে রং উৎপাদনের আড়ালে গোপনে এই মাদক তৈরি করে আসছেন। একটি রং তৈরির কারখানা কিনে সেটিকে ঢাল বানিয়ে গোপনে ইয়াবা প্রস্তুত করতেন তিনি। পরবর্তীতে উৎপাদিত এই মাদক রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সিন্ডিকেটগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।
আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। এই চক্রের পেছনে থাকা অন্য কারবারিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ এলাকায় এটিই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের আরশিনগর এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল র্যাব-১০। সেই অভিযানে আরেকটি অবৈধ মাদক কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়, সেখান থেকে ১ হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা, তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মন্তব্য