খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে বসবাসরত নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, কাঁচা ঘরে থাকা পরিবারগুলোকে পাকা ফ্ল্যাটে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে কড়াইলবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এই প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বস্তিবাসীদের উদ্দেশে বলেন,
“আপনারা যে কষ্ট করছেন, সেই কষ্ট আমরা ধীরে ধীরে সমাধান করতে চাই। আল্লাহর রহমতে এখানে উঁচু-উঁচু বিল্ডিং করে প্রতিটি পরিবারের নামে ছোট ফ্ল্যাট দেওয়া হবে।”
কড়াইল বস্তি সম্পর্কে তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠার সময় | ১৯৯০-এর দশক |
| দখলকৃত জমি | ৯৩ একর, তিনটি সরকারি সংস্থা থেকে |
| মোট পরিবার | প্রায় ৪০,০০০ পরিবার |
| ঘর ধরন | অধিকাংশ কাঁচা, ঘনবসতি ও অপর্যাপ্ত বেসমেন্ট |
| শিক্ষা | সীমিত স্কুল, শিক্ষার সুযোগ কম |
| স্বাস্থ্যসেবা | পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নেই, ক্লিনিক ও হাসপাতাল দূরে |
তারেক রহমান আরও বলেন, কেবল আবাসন নয়, শিক্ষার ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি জানান,
“আমরা চাই বাচ্চাদের জন্য সুন্দর স্কুল গড়ে তুলব। স্কুলের পাশাপাশি খেলাধুলার জন্য মাঠ থাকবে। স্থানীয় ক্লিনিক ও হাসপাতাল থাকবে যাতে চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে না হয়। এইভাবে পুরো এলাকায় একটি সুসংগঠিত পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।”
এছাড়াও তিনি বলছেন, বস্তিতে বসবাসরত মানুষের জীবনের মান উন্নয়নের জন্য ধাপে ধাপে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এতে শিক্ষিত ও সুস্থ সমাজ গড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে বস্তির শিশু ও যুবসমাজ উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।
উল্লেখ্য, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী। কড়াইল বস্তি এই নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। নির্বাচনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমি জানি, এটি নির্বাচন আচরণবিধিতে পড়বে কি না, কেউ ষড়যন্ত্র করবে কি না। তবে আমি আল্লাহর রহমত নিয়ে বস্তিবাসীর জন্য যা সম্ভব, সবকিছু করতে চাই।”
কড়াইল বস্তিতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, শুধু আবাসনই নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। ৪০,০০০ পরিবার নতুন ফ্ল্যাটে বসবাস করতে পারবে এবং তাদের জীবনমান উন্নত হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজধানীর সবচেয়ে বড় বস্তির পুনর্বাসন ও উন্নয়ন সম্ভবপর হবে।