স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে মহাজন পাড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ওই সময় বাসের ভেতরেই ঘুমিয়ে ছিলেন চালক। আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পরে স্থানীয়রা মুঠোফোনে ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। তাদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই বাসটির ভেতরের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়।
ঘটনার সময় বাসের ভেতরে চালক অবস্থান করায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারত। তবে সময়মতো বিষয়টি নজরে আসায় এবং আশপাশের লোকজনের তৎপরতায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায় কিসলু জানিয়েছেন, বাসটিতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বাসটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং অগ্নিসংযোগের পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জনবহুল এলাকায় এ ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাতে বা ভোরে সড়কের পাশে কিংবা নির্দিষ্ট স্থানে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার সময় এ ধরনের নাশকতা ঠেকাতে সতর্কতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আগুন দেওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।


