খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে এক শোকাবহ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের মাত্র দুই দিনের মাথায় না-ফেরার দেশে চলে গেলেন তার সহধর্মিণী ও ইরানের প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি মানসুরেহ খোজাসতেহ বাগেরজাদেহ। গত সোমবার (২ মার্চ, ২০২৬) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে পরিচালিত এক ভয়াবহ সামরিক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় খামেনির পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে মানসুরেহ খোজাসতেহ অন্যতম। হামলার পর তাকে দ্রুত তেহরানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা দুই দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (ICU) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মানসুরেহ খোজাসতেহ বাগেরজাদেহ ১৯৪৫ সালে মাশহাদে একটি ধার্মিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। খামেনির রাজনৈতিক জীবনের চড়াই-উতরাই এবং নির্বাসনের দিনগুলোতে তিনি ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। প্রচারবিমুখ এই নারী পর্দার আড়ালে থেকে ইরানের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে চার পুত্র এবং দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| ব্যক্তিত্ব | মানসুরেহ খোজাসতেহ বাগেরজাদেহ |
| জন্মস্থান | মাশহাদ, ইরান |
| বিবাহের বছর | ১৯৬৪ সাল |
| স্বামী | আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (প্রয়াত) |
| সন্তান সংখ্যা | ৬ জন (৪ পুত্র, ২ কন্যা) |
| আঘাতের কারণ | ২৮ ফেব্রুয়ারির সামরিক হামলা |
| মৃত্যুর তারিখ | ২ মার্চ, ২০২৬ |
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীর এই বিয়োগান্তক ঘটনা দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারিভাবে কয়েক দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচন এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন দেশটির নীতি-নির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানসুরেহ খোজাসতেহ’র মৃত্যুতে বিভিন্ন মুসলিম দেশের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। তার দীর্ঘ ত্যাগের কথা স্মরণ করে শোকবার্তায় বলা হয়েছে, তিনি ছিলেন ধৈর্য ও সাহসিকতার এক অনন্য প্রতীক। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে তার স্বামীর পাশে সমাহিত করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।