খুলনার পাইকগাছায় স্লুইসগেটের কাছাকাছি নদীসংলগ্ন পানি থেকে আনুমানিক ৭০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ৪ নম্বর দেলুটি ইউনিয়নের দারুণ মল্লিক গ্রাম সংলগ্ন স্লুইসগেট এলাকা থেকে মরদেহটি ডাঙায় তোলা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ২টার দিকে দেলুটি ইউনিয়নের দারুণ মল্লিক গ্রামের ২২ নম্বর পোল্ডারের স্লুইসগেটের কাছে পানিতে একটি মরদেহ ভেসে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অল্প সময়ের মধ্যেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্লুইসগেট এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। লাশের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ পাইকগাছা থানা-পুলিশকে খবর দেন।
খবর পাওয়ার পরপরই পাইকগাছা থানা-পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা স্থানীয় অধিবাসীদের সহায়তায় পানি থেকে ভাসমান নিথর দেহটি উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসে। মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আশপাশের গ্রামের লোকজনকে ডেকে এনে দেখানো হলেও শেষ পর্যন্ত কেউ তাঁকে শনাক্ত করতে পারেননি। বৃদ্ধের গায়ে বা আশপাশে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নির্ধারণের মতো কোনো প্রমাণ মেলেনি।
উদ্ধারকৃত মরদেহের প্রাথমিক তথ্য ও সুরতহাল সম্পন্ন করার কাজ শেষে তা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। শরীরের কোনো আঘাতের চিহ্ন আছে কি না কিংবা মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আওয়াল কবির জানান, স্লুইসগেটের পানি থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে তা ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
ওসি আরও নিশ্চিত করেন যে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির সঠিক পরিচয় বের করতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পেলেই এটি দুর্ঘটনা, স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—তা স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হবে। বর্তমানে এ বিষয়ে পাইকগাছা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।



