খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার ভোররাতের দিকে উপজেলার খোদ্দকোমরপুর ইউনিয়নের মোজাহিদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পলাতক আরেক সন্দেহভাজনকে ধরতে অভিযান চলছে।
নিহত দুজন হলেন পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের সাঁতারপাড়া গ্রামের মৃত লাল মিয়া শেখের ছেলে লেবু মিয়া ওরফে ভন্ডল (২৪) এবং মস্তাপুর গ্রামের মৃত দানোজ মিয়ার ছেলে মঈনুল ইসলাম (৫০)। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার আলম খান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে এক নারী তাঁর এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা থেকে আসা একটি দূরপাল্লার বাস থেকে পলাশবাড়ী উপজেলার ঠুটিয়াপুকুর এলাকায় নামেন। সেখান থেকে তাঁরা সাদুল্লাপুর–ঠুটিয়াপুকুর সড়ক ধরে ইদিলপুর ইউনিয়নের মাদারহাট খেয়াঘাট (ভাঙা সেতু সংলগ্ন এলাকা) অভিমুখে রওনা হন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই সময় তিনজন ব্যক্তি তাঁদের পথরোধ করে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। আতঙ্কিত অবস্থায় নারী ও তাঁর স্বজন চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করে।
ধাওয়া খেয়ে তারা মোজাহিদপুর এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে। এরপর উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারধর করে। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তৃতীয় ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি আবদুল আলিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
নিম্নে ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার সময় | শুক্রবার, ভোর সাড়ে ৪টা |
| স্থান | মোজাহিদপুর এলাকা, খোদ্দকোমরপুর ইউনিয়ন, সাদুল্লাপুর |
| নিহত | ২ জন |
| পলাতক | ১ জন |
| উদ্ধারকৃত আলামত | ১টি মোটরসাইকেল |
| বর্তমান অবস্থা | মরদেহ ময়নাতদন্তে, মামলা প্রক্রিয়াধীন |
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙা সেতু ও খেয়াঘাটসংলগ্ন সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই ও অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভোর ও গভীর রাতে দূরপাল্লার যাত্রীদের লক্ষ্য করে অপরাধীরা সক্রিয় থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, গণপিটুনির মতো ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। এতে প্রকৃত ঘটনা আড়াল হওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে, এ ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জনমনে সঞ্চিত ক্ষোভের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে এনেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।