গাজায় গণহত্যা: মুসলিম বিশ্ব নিরব থাকার কারণ কি?

গাজা আজ মৃত্যুপুরী। প্রতিদিন সেখানে লাশের সারি দীর্ঘ হচ্ছে, শিশুরা অনাহারে কাঁদছে, হাসপাতালগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শিশুর কান্না, মায়ের আর্তনাদ, ধসেপড়া ভবন আর রক্তাক্ত পথঘাট- এটিই ফিলিস্তিনের দৈনন্দিন বাস্তবতা। গাজার ছোট্ট শিশুরা আজো বুঝতে পারে না, কেন তার বাবা আর ফিরে আসে না। কয়েক দিন আগেও যে বাবার কোলে চড়ে বাজারে যেত, এখন মায়ের আঁচলেই লুকিয়ে থাকে সারাদিন।

মানবতাবোধ কিংবা ধর্মীয় বিবেচনায় গাজায় ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রের জন্যই একটি স্পষ্ট উদ্বেগের কারণ। তবুও দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এ ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে বিরত থাকছে।

বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর প্রতিবাদের ভাষা শুধুমাত্র নিন্দা জানানো আর সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। গাজার বিষয়ে কোনো গুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে মূলত এই মুসলিম দেশগুলোকে এক প্রকার অক্ষমই বলা চলে। গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের নৃশংসতার বিরুদ্ধে বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো যেসব কারণে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারছে না তার কিছু কারণ তুলে ধরেছে তুরস্কের গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ।

আরব বিশ্বের প্রেক্ষাপটে কিছু কিছু রাষ্ট্রের মুসলিম শাসকরা ফিলিস্তিনকে বোঝা হিসেবে দেখে থাকেন। ফিলিস্তিনে তাদের কোনো পদক্ষেপ বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দেশের সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে থাকেন তারা।

তবে ইসরাইল পুরো ফিলিস্তিন দখল করে নিলেও মুসলিম শাসকদের উদ্বেগের পরিমাণ কম হতো বলে ধারণা করা হয় কারণ গাজায় এমন নৃশংসতা আর গণহত্যা চলতে থাকায় নিজ দেশের জনগণের কাছ থেকেও চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন শাসকরা। আর এ কারণেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিতে পারলেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অন্তত প্রতিবাদ বা নিন্দা জানাচ্ছে দেশগুলো।

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর মতই বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলো নারীদের বোরকা পড়া নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রে ইসলাম শাসন ব্যবস্থা কায়েমসহ, ইসলামের বিধিবিধান নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কোন্দল, অন্য ধর্মের প্রতি বিরোদ্ধাচরণের ক্ষেত্রে যতটা তৎপর, কঠিন এবং আগ্রাসী ফিলিস্তিনে গণহত্যার ব্যাপারে কিন্তু তারা ততটাই নিরব, কিংকর্তব্যবিমূঢ়।  কিছু আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আর সামাজিক যোগাোযাগ মাধ্যমে পোস্ট ছাড়া আর কোন কর্মসূচি চোখে পড়ে না। 

ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর প্রতিবাদ না জানানোর একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক দিকও রয়েছে।

পাকিস্তান পারমাণবিক ক্ষমতা সম্পন্ন একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। কিন্তু এই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ফিলিস্তিন থেকে অনেক দূরে। তাই চাইলেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে না।  অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ এবং আরব ও অনারব উভয় মুসলিম দেশগুলোই পরমাণবিক অস্ত্রের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

ইসরাইল গাজায় পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করবে না। কারণ এতে ইসরাইলের নিজ ভূখন্ডের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পর বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে গাজা অঞ্চল।

তবে এটি বিনা দ্বিধায় অন্যান্য দেশের উপর পারমাণবিক বোমা ফেলতে পারে। আর মুসলিম দেশগুলো এই বিষয়ে নিশ্চিত বলেই তারা ইসরাইলের সঙ্গে কোনো ঝামেলায় জড়াতে চায় না।  

মুসলিম দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো থেকে বড় সহায়তা পেয়ে থাকে। ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ত মিত্র। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে অসন্তুষ্ট করে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো সমর্থন দিতে চায় না মুসলিম দেশগুলো।
 

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।