গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত একটি জনাকীর্ণ ক্যাফেতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা।
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, গাজা সিটির বন্দর এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য তৈরি একটি শিবিরে পরিণত হওয়া ওই ক্যাফেটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো অনেক মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলার পর আহত ও নিহতদের উদ্ধারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরে বেশ কয়েকটি মরদেহ গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় হামাসের কয়েকজন কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ওই ব্যক্তিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে তাদের এই দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। হামলায় নিহত ও আহতদের মধ্যে কতজনকে ওই লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ইসরায়েল দাবি করছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গাজায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চললেও ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের অমিল রয়ে গেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার বলে আসছেন, হামাস অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। অন্যদিকে হামাসের অবস্থান হলো, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না।
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র, শিবির ও অস্থায়ী স্থাপনায় অবস্থান করছেন। এমন পরিস্থিতিতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও অব্যাহত রয়েছে।
হামাস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ক্যাফেটিতে হামলা মধ্যস্থতাকারী এবং যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তাদানকারী দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া যুদ্ধবিরতির আহ্বানের প্রতি ‘নির্লজ্জ অবজ্ঞা’। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
গাজায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়মিতই ঘটছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ব্যবহৃত স্থাপনা ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সর্বশেষ ক্যাফে হামলার ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিচয় এবং তাদের মধ্যে কতজন বেসামরিক ছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইসরায়েল ও হামাসের প্রধান শর্তগুলো এখনো পরস্পরবিরোধী। ফলে গাজায় সহিংসতা বন্ধ করে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা রয়ে গেছে।

