কক্সবাজারের ব্যস্ততম পর্যটন জোনের লাইট হাউজ এলাকায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে রাতের আঁধারে একটি রিসোর্ট জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে মাহফুজ শাকিল (৪০) নামের এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতাসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ও আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে কক্সবাজার লাইট হাউজ এলাকার নকশী রিসোর্টে এই তাণ্ডব ও দখলের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মামলার দুই নম্বর আসামি মাহফুজ শাকিলকে আটক করে। গ্রেপ্তার হওয়া শাকিল উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা শামশুদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, পর্যটন এলাকার নকশী রিসোর্ট নামক আবাসিক প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইসরাত জাহান বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয়ভাবে ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত লাইট হাউজ এলাকার বাসিন্দা আল-আমিনকে। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন—আটক মাহফুজ শাকিল, বদরুল হাসান মিল্কী, আশিকুল ইসলাম এবং আরিফ।
হোটেল মালিক ইসরাত জাহান এজাহারে উল্লেখ করেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে কলাতলী ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিল। বেশ কিছুদিন ধরে তারা নকশী রিসোর্টে গিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ইতোপূর্বে মিল্কী রিসোর্টে থাকা তার মালিকানাধীন ৪টি ফ্ল্যাট এবং নিচতলায় থাকা ৮০০ বর্গফুটের একটি দোকান জোরপূর্বক দখলে নেয়। এরপরও চাঁদার টাকা না পাওয়ায় তারা রামুর একটি ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে অধ্যয়নরত তার শিশু সন্তানকে অপহরণ করে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দিয়ে আসছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে এর আগে তিনি থানায় ৩ থেকে ৪টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
হুমকির ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ১০-১২ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে বেআইনিভাবে রিসোর্টে প্রবেশ করে। তারা সেখানে তাণ্ডব চালিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভেতরের মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পুরো রিসোর্টটি নিজেদের দখলে নেয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে রিসোর্টের কর্মচারী আব্দু শুকুরকে এলোপাতাড়ি মারধর করে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়। তিনি ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ফরাজিপাড়া গ্রামের কবির আহমেদের ছেলে। মারধরের একপর্যায়ে কর্মচারীর হাত থেকে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়।
দখলদাররা রিসোর্টের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৮টি ৩২ ইঞ্চির স্যামসাং স্মার্ট টিভিসহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। চলে যাওয়ার সময় তারা হুমকি দেয় যে, দাবি করা ১০ লাখ টাকা না পাওয়া পর্যন্ত রিসোর্ট তাদের দখলেই থাকবে এবং এ বিষয়ে থানা-পুলিশ বা বাড়াবাড়ি করলে তাকে প্রাণনাশের মুখোমুখি হতে হবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। ঘটনার পরপরই মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে। শহর বা পর্যটন এলাকার কোথাও যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা জবরদখল রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

