খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৬:২০ পিএম
রাজধানীর বকশীবাজারে অবস্থিত ঢাকা সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার সামনের সড়কে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক হামলা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকাটিতে থমথমে ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন কর্মসূচি ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ঘটনার জের ধরে চকবাজার ও বকশীবাজার সংলগ্ন আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসের আশপাশে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
দুপুর ৩টার দিকে আলিয়া মাদরাসার সামনের প্রধান সড়কে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে বেলা সোয়া ৫টার দিকে দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা লোহার পাইপ ও লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে ঢাকা আলিয়া মাদরাসার প্রধান ফটকের ভেতরে ও আশপাশে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সামনের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে পিছু না হটার ঘোষণা দেন। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে বকশীবাজার থেকে চানখাঁরপুল এবং চকবাজারগামী গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।
এর আগে সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জুলাই অভ্যুত্থানের কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আলিয়া মাদরাসা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মধ্যস্থতার চেষ্টা চালান এবং দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করার পদক্ষেপ নেন।
চকবাজার ও লালবাগ থানা পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।
মন্তব্য