গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য ধাপে ধাপে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। মোতায়েন করা বাহিনীর মধ্যে রয়েছে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ৮ প্লাটুন এসআরবি এবং ৫ প্লাটুন আনসার। এসব বাহিনীর সদস্যরা শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন।
বুধবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত সোমবার শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে ২১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। সেদিন ২৫ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১১ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করেন।
বুধবার বিজিবির সংখ্যা আরও এক প্লাটুন বাড়িয়ে ১২ প্লাটুন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৮ প্লাটুন এসআরবি ও ৫ প্লাটুন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন বাহিনীর ২৫ প্লাটুন সদস্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রশাসনের এই বাড়তি সতর্কতার মধ্যে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গাজীপুরের কোথাও নতুন করে শ্রমিক বিক্ষোভ কিংবা মহাসড়ক অবরোধের খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে জানা গেছে।
গাজীপুর দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। এখানে বিপুলসংখ্যক তৈরি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম ও শ্রমিকদের কর্মপরিবেশের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি এবং দেশের রপ্তানি বাণিজ্যও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে তার প্রভাব শুধু কারখানার উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকে না, সড়ক যোগাযোগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও পড়তে পারে।
বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, পণ্যবাহী যানবাহন এবং দূরপাল্লার পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব সড়কে অবরোধ সৃষ্টি হলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে।
এ পরিস্থিতিতে শ্রমিক অসন্তোষের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করছে প্রশাসন। তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত থাকায় শিল্পাঞ্চলের কারখানা ও মহাসড়কগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকার খবর পাওয়া গেছে।


