যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে গুপ্তচরবৃত্তি ও অপারেশনাল কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত মেহদি খানকি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মেহদি খানকি একটি ‘বিপ্লববিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের অপারেশনাল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কারাজ শহরে একটি অভিযান চালিয়ে মেহদি খানকিকে গ্রেফতার করে বলে ফার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় বা তার আগে পরিচালিত অভিযানে তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধার করা সামগ্রীর তালিকায় পিস্তল ও গুলির পাশাপাশি বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত রিমোট, হাতে তৈরি গ্রেনেড, কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বিস্ফোরক টিউব এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সামগ্রী উদ্ধারের বিষয়টিকে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে বলে ইরানি পক্ষের বক্তব্য থেকে জানা যায়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মেহদি খানকির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এরপর আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই রায় পরবর্তী সময়ে কার্যকর করা হয়েছে।
তবে মামলাটি নিয়ে বিস্তারিত বিচারিক নথি, আসামির পক্ষে আইনজীবীর বক্তব্য কিংবা অভিযোগের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। ফলে ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া অভিযোগের বাইরে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের অভিযোগ দেশটির নিরাপত্তা ও বিচারিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রায়ই দাবি করে থাকে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরানে গুপ্তচরবৃত্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব মামলায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, আসামিদের আইনগত অধিকার এবং পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে মেহদি খানকির মামলার ক্ষেত্রে এমন কোনো স্বাধীন মূল্যায়ন বা বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মেহদি খানকির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং কথিত বিদেশি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যই এখন পর্যন্ত প্রধান তথ্যসূত্র হিসেবে রয়েছে।