গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একাধিক মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও তিন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মতিঝিল এলাকায় আত্মগোপনে থাকার পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে তারা গ্রেফতার হন।
গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার রাতে তাদের গোপালগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। পরদিন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বোড়াশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এম মনির আহমেদ (ননী), গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি শরীফ আমিনুল হক লাচ্চু এবং জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সুপারুল আলম (টিকে)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধেই গোপালগঞ্জের বিভিন্ন থানায় একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলাও রয়েছে। মামলাগুলোর কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং মতিঝিল এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করার পর গোপালগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মতিঝিল থানা পুলিশের সহযোগিতায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মতিঝিল এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের বিশেষ দল মতিঝিল থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
তিনজনই গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদেও ছিলেন তারা। তাদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে নতুন অগ্রগতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।


