খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় ভোররাতে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে হাজারীবাগের একটি অভ্যন্তরীণ সড়কে এই মিছিল বের করা হয়। ‘গোপালগঞ্জ গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা জেলা শাখা ছাত্রলীগের ব্যানারে আয়োজিত এই মিছিলে শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন। তবে ঝটিকা এই কর্মসূচির পরপরই পুলিশি অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে দুই জনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ভোরের আলো ফোটার পরপরই হাজারীবাগ এলাকার সড়কটিতে হঠাৎ করে বেশ কিছু তরুণ ও যুবক জড়ো হন। তারা একটি ব্যানার সামনে নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে দ্রুত গতিতে এগোতে থাকেন। মিছিলকারীরা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে এবং তাদের দলীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে থাকেন। পুরো কর্মসূচিটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই এবং কোনো ধরনের বড় জমায়েত তৈরি হওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী দ্রুত চারদিকের গলিতে ছড়িয়ে পড়ে আত্মগোপন করেন।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কেরানীগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং সাবেক কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় এই ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। মাঠ পর্যায়ে এই মিছিলটির মূল নেতৃত্বে ছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা। মূলত প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার জন্য ভোরের সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়ার পর পরই হাজারীবাগ থানা পুলিশের একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। মিছিলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশ থেকে দুই জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
এই বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হাজারীবাগে জড়ো হয়ে মিছিল করার চেষ্টা করছিল। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে দুই জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ওসি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের তৎপরতা রুখতে এবং রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছে। বর্তমানে হাজারীবাগ ও এর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।